রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: বাগান বন্ধ। ফ্যাক্টরিও বন্ধ। কমিটি তৈরি করে চা পাতা তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। পাতা তোলার জন্য শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মিলছে মাত্র ১০০ টাকা করে। চরম অর্থ সংকটে ভুগছেন শ্রমিকরা। এই অবস্থায় দুর্গাপুজোর আয়োজন ভাবাই যায় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের পুজো অনুদানের অর্থে এবারও পুজো হচ্ছে বান্দাপানিতে।
বাগানের বাসা লাইনে বান্দাপানি চা বাগানের পুজোটি হয়। ঠিক কবে এই বাগানে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল, তা অবশ্য কারও জানা নেই। বয়স্ক শ্রমিকদের কথায়, বাগানের পুজোর বয়স ৬০ বছর তো হবেই। বন্ধ থাকায় বাগানের যুবকদের সিংহভাগই ভিনরাজ্যে গিয়েছেন কাজ করতে। সেইজন্য গতবছর থেকে বাগানে মায়ের পুজোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন মহিলা শ্রমিকরা।
বান্দাপানি টি জি বাসা লাইন দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি পুজা কার্জি থাপা বলেন, বাগান বন্ধ। একটি কমিটি তৈরি করে এখন শুধু পাতা তোলা হচ্ছে। তাতে দৈনিক হাজিরা মিলছে মাত্র ১০০ টাকা। শ্রমিকদের এই আর্থিক দুরবস্থার জন্য এ বছর বাগানে পুজো করাটাই সম্ভব ছিল না। কিন্তু তারপরেও মায়ের আরাধনা বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের পুজো আয়োজনে মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের পুজো অনুদানের অর্থে বাগানে মায়ের পুজো হবে।
পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ শম্পা মণ্ডল বলেন, গতবছর বাগানে পুজো করার জন্য ৮৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছি আমরা। এবার ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেবে। তারজন্য প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেছি আমরা। মুখ্যমন্ত্রী অনুদান না দিলে আমাদের পক্ষে পুজো করা সম্ভব ছিল না। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এলাকার আদিবাসী, নেপালি, বোড়ো ও মেচ জনজাতির শিল্পীরা নাচ-গান পরিবেশন করবেন। মাদলের তালে পুজোয় মেতে উঠবেন আদিবাসী, নেপালি ও বোড়ো জনজাতির তরুণীরা। তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বন্ধ বাগানেও এখন পুজো হচ্ছে।