Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মন্দিরবাজারে থিমের বাহার. ফুটবলের আদলে মণ্ডপ, দাবার ঘুঁটি, বল ও লাট্টুর তৈরি প্রতিমা

পুজো আসতে আর কয়েকদিন। এখন একপ্রকার নাওয়া-খাওয়া ভুলে মণ্ডপশিল্পীরা একটানা কাজ করে চলছেন। আর তাঁদের সেই উদ্যোগকে পাথেয় করেই মন্দিরবাজারে এবার হরেক থিমের বাহার নিয়ে হাজির হচ্ছে বিভিন্ন পুজো কমিটি।

মন্দিরবাজারে থিমের বাহার. ফুটবলের আদলে মণ্ডপ, দাবার ঘুঁটি, বল ও লাট্টুর তৈরি প্রতিমা
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: পুজো আসতে আর কয়েকদিন। এখন একপ্রকার নাওয়া-খাওয়া ভুলে মণ্ডপশিল্পীরা একটানা কাজ করে চলছেন। আর তাঁদের সেই উদ্যোগকে পাথেয় করেই মন্দিরবাজারে এবার হরেক থিমের বাহার নিয়ে হাজির হচ্ছে বিভিন্ন পুজো কমিটি।

Advertisement

মন্দিরবাজারের সায়ক গোষ্ঠীর পুজো মহিলা পরিচালিত। ফি বছর চমক থাকে তাদের পুজোয়। এখন মোবাইল ফোনের বিভিন্ন খেলা যেন কেড়ে নিয়েছে ছোটবেলার সেই খেলার পরিসর। সেই খেলাধুলাকে ফিরিয়ে আনতেই এবার এই পুজো কমিটির থিম ‘আয় খেলি মাখি ধূলি শরীরটা গড়ে তুলি’। পুজো কমিটির এক সংগঠক মিনতি ছাটুই বলেন, এবার আমাদের পুজো ১৩ বছরে পড়েছে। মণ্ডপটি হচ্ছে ফুটবলের আদলে। আর দুর্গা প্রতিমা বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ দাবা-লুডোর ঘুঁটি, ছোট বল, লাট্টু, ক্যারামের ঘুঁটি, স্কিপিং দড়ি দিয়ে গড়ে উঠছে প্রতিমা। ক্রিকেট বলের উপরে ভাসমান অবস্থায় থাকবেন মা। এছাড়াও মণ্ডপের চারদিকে সৌরভ, ধ্যানচাঁদ থেকে শুরু করে গোষ্ঠপালের জীবনী সহ ফোটো দেওয়া থাকবে।
অন্যদিকে, চাঁদপুর মিলন সঙ্ঘের পুজো এবার ৭১ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা বনমালি নস্কর বলেন, এবারের থিম ওঁ শান্তি। মানুষ কষ্ট-যন্ত্রণা পেলে শান্তির খোঁজ করে। কোথায় তাঁরা শান্তি পাবে, সেটাই তুলে ধরা হচ্ছে। যেমন একটি বটগাছের ছায়া, অথবা মায়ের কোল– এসব থেকেই তো মানুষ শান্তি খোঁজে। সেটাই ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপে। মন্দিরবাজারের ঘাটেশ্বর প্রগতি পরিষদের পুজোর এবার ৭৩ বছর। পুজো কমিটির কর্তা পলাশ পুরকাইত বলেন, গুজরাটের এক দেবী মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া আলোকসজ্জায় থাকবে বিশেষ আকর্ষণ। পলাশবাবু জানান, পুজোর দিন ১০০ জন মানুষকে বস্ত্র বিতরণ সহ নরনারায়ণ সেবা হবে।
দয়ারামপুর বালক সঙ্ঘের পুজো এবার ৪৫ বছরে পদার্পণ করছে। পুজো কমিটির কর্তা শ্যামল হালদার বলেন, ভিনরাজ্যের একটি মন্দিরের আদলে আমাদের মণ্ডপ নির্মিত হচ্ছে। দয়ারামপুরেরই দক্ষিণপল্লির এটা ৩৩ বছরের পুজো। পুজো কমিটির কর্তা স্বনুপ হালদার বলেন, এবারের থিম ফিরে দেখা সেইসব দিন। পুরনো দিনের ঢেঁকিতে ধান ভাঙা, হ্যারিকেন, হ্যাজাকের লাইট– সবই ফুটিয়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ছোটদের পুরনো ড্যাংগুলি, লুকোচুরি, চোর-পুলিশ খেলা– এসবও দেখানো হবে। বল্লভপুর দুর্গাপুজো কমিটির এবারের প্রধান আকর্ষণ ৮১ ফুটের প্রতিমা। পুজো কমিটির এক সংগঠক সুদাম নস্কর বলেন, গত বছর ১০৮ ফুটের দুর্গা ছিল। এবারের প্রতিমা আর আলোকসজ্জাও নজর কাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ