Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পালযুগের কষ্টিপাথরের সিংহবাহিনী দুর্গার পুজো জিয়াগঞ্জে, বিগ্রহটি মেলে স্বপ্নাদেশে

জিয়াগঞ্জের তিন শতাধিক বছরের প্রাচীন কষ্টি পাথরের সিংহবাহিনী দেবীর পুজোকে কেন্দ্র করে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।

পালযুগের কষ্টিপাথরের সিংহবাহিনী দুর্গার পুজো জিয়াগঞ্জে, বিগ্রহটি মেলে স্বপ্নাদেশে
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: জিয়াগঞ্জের তিন শতাধিক বছরের প্রাচীন কষ্টি পাথরের সিংহবাহিনী দেবীর পুজোকে কেন্দ্র করে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। নেতাজি মোড় সংলগ্ন সিংহবাহিনী মন্দিরে ওই প্রতিমার পুজো হয়। মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, পালযুগের কষ্টি পাথরের সিংহবাহিনী দেবীকে জিয়াগঞ্জ শহরের নিমতলা ঘাট সংলগ্ন ভাগীরথী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। দেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হল, এক বণিক ভাগীরথী নদী দিয়ে বাণিজ্য করতে যাচ্ছিলেন। রাতে জিয়াগঞ্জে অবস্থান কালে ওই বণিক দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে বলেন, আমি ভাগীরথীতে নিমজ্জিত, আমাকে উদ্ধার কর।  স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি সিংহবাহিনী মাকে ভাগীরথী নদী থেকে উদ্ধার করেন। দেবীকে প্রথমে ব্রহ্মময়ী কালীমন্দিরে রাখা হয়। ওই মন্দিরেই দেবী দীর্ঘকাল ধরে পূজিত হন। শতাধিক বছর আগে একজন নাগা সন্ন্যাসী জিয়াগঞ্জে এসেছিলেন। তিনি মাকে বর্তমান মন্দিরে পঞ্চমুন্ডির আসনে প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরে দেবীর নিত্যপুজো হয়। তবে এই চারদিন দেবী দুর্গারূপে পূজিত হন। সিংহবাহিনী মা জিয়াগঞ্জের পাশাপাশি জেলাবাসীর কাছে খুব জাগ্রত দেবী হিসেবে পরিচিত। সারা বছর ধরে জেলা এবং জেলার বাইরে থেকে ভক্তরা পুজো দিতে আসেন। মনস্কামনা পূরণের জন্য মানত করেন। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দিরকে সাজিয়ে তোলা হয়। চারদিন দেবীকে অন্ন, পোলাও, রকমারি ভাজা, তরকারি, মিষ্টান্ন দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। নবমীর দিন ইলিশ মাছ সহযোগে অন্নভোগ হয়। এছাড়া পুজোর চারদিন ভোগে বকফুলের বড়া দেওয়া হয়। মন্দিরের ট্রাস্ট কমিটির সম্পাদক এক সদস্য বলেন, আগে পশু বলি হতো। এখন বলি প্রথা বন্ধ। তবে কুমড়ো বলি হয়। মন্দিরের পুরোহিত পার্থসারথি পণ্ডিত বলেন, পুজোর সময় সিংহবাহিনী দুর্গারূপে পূজিত হন। আবার মাকে বিপদতারিনী, মঙ্গলচণ্ডী প্রভৃতি দেবী রূপেও পুজো করা হয়। 

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ