Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জলকে ঘিরে মানুষের লড়াই, অভিনব থিম হাওড়ার দুই বারোয়ারি দুর্গাপুজোয়

একফোঁটা পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছে মানুষ। অথচ কত জায়গায় জলের দেদার অপচয় চলেছে। আবার এই জলকে ঘিরেই জীবন সংগ্রাম চলে ধীবর সম্প্রদায়ের।

জলকে ঘিরে মানুষের লড়াই, অভিনব থিম হাওড়ার দুই বারোয়ারি দুর্গাপুজোয়
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একফোঁটা পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছে মানুষ। অথচ কত জায়গায় জলের দেদার অপচয় চলেছে। আবার এই জলকে ঘিরেই জীবন সংগ্রাম চলে ধীবর সম্প্রদায়ের। তাই জলেই যেন জুড়ে রয়েছে জীবনের হরেক মাত্রা। সেই জলকে ঘিরে অভিনব থিম ভাবনায় পুজো মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছে হাওড়ার দুই ক্লাব, হালদারপাড়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন ও সাঁতরাগাছি স্পোর্টিং ক্লাব।

Advertisement

হাওড়ার নামকরা পুজোগুলির মধ্যে একটি নেতাজি সুভাষ রোডের হালদারপাড়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের পুজো। এটি তাদের ৬১তম বছরের পুজো। ক্লাবটি পুজোয় জল সংরক্ষণের বার্তা দিচ্ছে। থিমের নাম, ‘অবারিত’। যথেচ্ছভাবে পানীয় জলের অপচয় চলছে বহু জায়গায়। কেটে ফেলা হচ্ছে বড় বড় গাছ। ফলস্বরূপ বৃষ্টির অভাব দেখা দিচ্ছে, মাটির নীচের জলস্তরও নেমে যাচ্ছে। এক চুমুক জল পান করার জন্য হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গ্রামজুড়ে। গ্রামের একটি মাত্র ইজারাকে ঘিরে ভিড় করেছেন মহিলারা। অনেকে জল সংগ্রহ করতে আবার তার ভিতরেও নেমে পড়েছেন। এমনই ভয়াবহ বাস্তবতা এবার ফুটে উঠবে এই ক্লাবের মণ্ডপসজ্জায়। কয়েকশো ছোট ছোট হাঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপটি। লাইট ও সাউন্ডের মাধ্যমে ভিতরে তৈরি করা হবে বৃষ্টির আবহ। পুজোর বাজেট প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। ক্লাব কমিটির তরফে অভিষেক কর, শান্তনু আঢ্য, অভিজিৎ দত্তরা বলেন, পানীয় জলের অপচয় বন্ধ করতে মানুষকে লাগাতার সচেতন করতে হবে। সে কারণেই এই থিম ভাবনাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমাতেও অভিনবত্ব থাকছে।
শহরের অন্যতম সেরা পুজোগুলোর মধ্যে একটি সাঁতরাগাছি স্পোর্টিং ক্লাব। থিম ভাবনায় বরাবরই চমক থাকে তাদের। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। জলকে ঘিরে ধীবর সম্প্রদায়ের জীবন সংগ্রাম ফুটিয়ে তুলছে তারা। থিমের নাম ‘কৈবর্ত’। মধ্যরাত থেকে সমুদ্রের সঙ্গে অসহনীয় লড়াই, মৎস্য শিকার, তারপর সারাদিন ধরে বাজারে তা বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা– সবটাই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপে। থাকছে মাঝিদের ব্যবহৃত নৌকো, সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জাল। বাঁশ, বেতের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব। পুজোর বাজেট প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। ক্লাব সম্পাদক সুজন লাহিড়ী বলেন, মাঝিদের কঠিন জীবন অনেকের কাছেই অজানা। তাদের জীবন সংগ্রাম মৎস্যপ্রিয় বাঙালির কাছে তুলে ধরাই লক্ষ্য আমাদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ