সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: দুর্গাপুজো মানে নানান সাজে সেজে ওঠা থিমের মণ্ডপ। নানা ধাঁচের প্রতিমা। চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ। রাত জেগে প্যান্ডেল তৈরি। এককথায় পুজোর আগে থেকেই নতুন আনন্দে মেতে ওঠা আট থেকে আশির। সেই আনন্দেই এখন মেতে উঠেছে বাগনান। এখানকার একাধিক থিমের মণ্ডপ কলকাতার পুজোগুলিকে টেক্কা দেবে বলে প্রস্ততি নিতে শুরু করেছে।
যেমন বাগনানের টেঁপুর গ্রাম্য পুজো পরিচালন সমিতি। ৫৩ বর্ষে পা দিয়েছে এই পুজো। এবছর তাদের থিম, ‘আনন্দযজ্ঞ’। পুজো কমিটির সম্পাদক শুভাশীষ গুড়িয়া জানান, দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ। সেই আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে মানুষ যেভাবে প্রস্ততি নেয় সেই প্রস্তুতিই তুলে ধরা হচ্ছে। চাঁদোয়া, অসমের বাঁশ, প্রদীপ, ধ্বজা, ঝালর, বড় আয়না, বড় আকারের ঘট, ত্রিনয়ন সহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। প্রবেশ করার পর মানুষ সম্পূর্ণ একটা নতুন জগতে প্রবেশ করবেন।
বাগনানের বেড়াবেড়িয়া গ্রামের শুভশক্তি সংঘের পুজো এবার ২৪ বছরে পদার্পণ করল। প্রায় চার লক্ষ টাকা বাজেট পুজোর। এবার থিম, ‘দ্বিমাত্রিক’। পুজোর সম্পাদক পিন্টু জানা জানান, দু’মাত্রায় মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। একটি দিক সাজছে টিন, বড় জালা, জানলা দিয়ে। অন্য মাত্রা সাজবে কাপড়, কুলুঙ্গি তেলের টিন দিয়ে। প্রতিমাতেও থাকছে চমক। বাগনানের গোহালবেড়িয়া (পশ্চিম) ও বীণাপানি সাধারণ পাঠাগারের পুজো এবার ৭১তম বর্ষে পদার্পন করল। প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বাজেট। পুজোর ভাবনা ‘শক্তিস্থল’। কমিটির সম্পাদক ঝন্টু মণ্ডল এবং অর্ণব সরকার জানান, মণ্ডপে বিষ্ণুর ১০ অবতার, ছিন্নমস্তা, বলির হাঁড়িকাঠ সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র থাকবে। বিভিন্ন শক্তিপীঠে গেলে একজন মানুষের যা উপলব্ধি হয়, আমাদের মণ্ডপে আসার পর সেই উপলব্ধি হবে।