কুন্তল পাল, বনগাঁ: অতীতের গরিমা আজ আর নেই। কমেছে আয়োজনের ব্যাপকতা। তবে বাড়ির দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যের সঙ্গে কখনই আপস করেনি বনগাঁর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। বনগাঁর ছয়ঘরিয়া এলাকার মানুষ অবশ্য এখনও এই বাড়ির দুর্গাপুজোকে ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো হিসাবেই জানেন। তিনশো বছরেরও আগেরকার কথা। স্বপ্নে দেখা দেবীমূর্তির আদলে প্রতিমা গড়ে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন গৌরহরি বন্দ্যোপাধ্যায়। গৌরহরি ছিলেন রাখালদাসের ছোটো ঠাকুরদা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাখালদাস এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস না করলেও এই পুজোর সঙ্গে ছিল তাঁর নাড়ির টান। তিনি পুজোর সময় এখানে এসে থাকতেন। পুজোর দিনগুলিতে আনন্দে মেতে উঠতেন।
বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের কেউই আর এখানে সেভাবে থাকেন না। তবে পুজোর সময় সকলেই আসেন বনগাঁর বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্গাপুজোর সময় রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছয়ঘরিয়ার বাড়িতে আসতেন গাড়ি করে। বাড়ির অন্যদের সঙ্গে তিনিও স্থানীয় গরিব মানুষদের নতুন শাড়ি, কম্বল, কাপড় দান করতেন। বহু মানুষকে পুজোর সময় তাঁরা আর্থিকভাবে সাহায্য করতেন। গাঁয়ের লোকজনের সঙ্গে গল্পগুজব করতেন তিনি। এখন বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোর গরিমা না থাকলেও বহু মানুষ এই বাড়ির পুজো দেখতে আসেন। অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দিতে মানুষের ঢল নাম । এখানে প্রতিমা একচালার। দেবীদুর্গা এখানে পরিচিত ‘বিড়াল হাত’ বা ‘বিড়াল হাতি দুর্গা’ নামে। কেন এমন নামে ডাকা হয়? পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবী দুর্গার দু’টি প্রমাণ মাপের হাত রয়েছে। বাকি আটটি হাত রয়েছে দু’দিকে কাঁধের উপর বিড়ালের থাবার মত। সেকারণেই দেবীকে ‘বিড়াল হাত দুর্গা’ নামে ডাকা হয়। জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় পুজোর প্রস্তুতি।



