Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেলপাতা-আমশাখা ও সিঁদুরে পুজোর স্থান নির্দিষ্ট করেন দুর্গা স্বয়ং, ১৪১ বছরের পুরনো পুজো মাইতিদের

কোন স্থানে পুজো করতে হবে তার চিহ্ন রেখে গিয়েছিলেন দুর্গা নিজে। বেলপাতা, আমশাখা আর সিঁদুর রেখে স্থান নির্দেশ করে গিয়েছিলেন।

বেলপাতা-আমশাখা ও সিঁদুরে পুজোর স্থান নির্দিষ্ট করেন দুর্গা স্বয়ং, ১৪১ বছরের পুরনো পুজো মাইতিদের
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: কোন স্থানে পুজো করতে হবে তার চিহ্ন রেখে গিয়েছিলেন দুর্গা নিজে। বেলপাতা, আমশাখা আর সিঁদুর রেখে স্থান নির্দেশ করে গিয়েছিলেন।

Advertisement

কাকদ্বীপের মাইতি পরিবারের দুর্গোৎসবের ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে এরকম বহু ইতিহাস। ১৮৮৫ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরের দেউলপোতায় পুজো শুরু করেছিলেন নন্দলাল মাইতি। তাঁর জমিতে পুজো শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন দুর্গা। নন্দলাল স্বপ্নাদেশ পান। সঙ্গে স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হন স্থানীয় ব্রাহ্মণ ও পটিদার। তাঁদেরও পুজোর প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিলেন দেবী। তারপর পুজো শুরু। 
নন্দলালের প্রয়াণের প্রায় ৩০ বছর পর তাঁর চার সন্তান কর্মসূত্রে আসেন কাকদ্বীপের গণেশনগরে। তারপর কাকদ্বীপে পূজো শুরু। এখনও সেই পুজো মহাসমারোহে করছে মাইতি পরিবার। এই পরিবারের শরদিন্দু মাইতি বলেন, ‘প্রপিতামহকে মূর্তি তৈরি করে পুজো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেবী। সেই নির্দেশ মেনে প্রতিবছরই মূর্তি তৈরি করে দুর্গার আরাধনা করা হয়। প্রথম বছর পুজোর জন্য ব্রাহ্মণ যে ফর্দ তৈরি করে দিয়েছিলেন সেই ফর্দ অনুসারেই আজও হয় পুজো। পুজোর আড়ম্বর কমেছে। কিন্তু জৌলুস অক্ষুণ্ণ।’ ধৃতিব্রত মাইতি নামে আর এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কেউ কোনওদিন বাইরে গিয়ে দুর্গাপুজো দেখেননি। কারণ পুজোর ছ’দিনই সবাই ব্যস্ত থাকেন। ছোটবেলায় দেখেছি দুর্গোৎসবের সময় বাড়ির বারান্দায় খড় দিয়ে আটচালা মণ্ডপ তৈরি করা হতো। প্রতিবেশীরা সাহায্য করতেন। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব হয় না। তবে অতীতের সব রীতিনীতি মেনেই পুজো করা হয়। পুজো প্রথম করেন যে ব্রাহ্মণ তাঁর বংশধরই আজও পুজো করেন। প্রথম বছর প্রতিমা করেছিলেন যে পটিদার তাঁর বংশধররাই এখনও করছেন মূর্তি নির্মাণ। পরিবারের সবার বিশ্বাস, আমাদের মাটির প্রতিমা খুবই জাগ্রত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ