শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: হারিয়ে যেতে বসেছে পুরনো দিনের খেলা। চার দেওয়ালেই বন্দি হয়ে গিয়েছে মানুষের জীবন। ফলে সেই খেলাধুলা থেকে আজকের শিশুরা বঞ্চিত। পুরনো দিনের সেই খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এবার অভিনব থিম মধ্যমগ্রামের আর্টিসান রেসিডেন্সি’র। মূলত মহিলা পরিচালিত এটা তাদের পঞ্চম বছরের পুজো। প্রতিবছরের মতো এবছরও তাদের থিম নজর কাড়বে বলেই আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
ডাংগুলি, পিট্টু, বাঘবন্দি, ইকির মিকির-চাম চিকির, এক্কা-দোক্কা, খো খো এমন আরও কত জানা-অজানা খেলা আজ বিলুপ্তপ্রায়। খেলার ছলে এগুলির মধ্যে দিয়ে কী অসাধারণ মনঃসংযোগ ও শারীরিক ক্ষিপ্রতা তৈরি করবার কৌশল ছিল, তাও জানে না আজকের শিশু, কিশোররা। এখন শৈশবজুড়ে শুধু অনলাইন গেম। অতীতের সেই মজা ফিরিয়ে দেওয়ার ভাবনা থেকেই অভিনব থিম ‘খেলা-চুরি’ দিয়ে তৈরি হচ্ছে মধ্যমগ্রামের আর্টিসান রেসিডেন্সি’র মণ্ডপ। ছোটদের একাধিক ক্রীড়াসামগ্রী দিয়েই সাজানো হচ্ছে মণ্ডপের ভিতর ও বাইরে। সামনে গেলেই খুঁজে পাওয়া যাবে ফেলে আসা অতীতের বহু স্মৃতি। কীভাবে কালের নিয়মে খেলাগুলি অবলুপ্ত হল, সেই চিত্রই তুলে ধরা হবে মণ্ডপের সামনে।
এনিয়ে পুজো কমিটির সভাপতি বিশ্বদীপ দাশগুপ্ত বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা অতি আধুনিক হয়ে উঠছি। কিন্তু অতীতের দিনগুলি মনে হয় আরও স্বস্তির ছিল। মানুষের জীবন এমন গৃহবন্দি ছিল না। খেলাধুলা আজ অতীতই বলা যায়। আর সেই ভাবনা থেকেই আমরা পুরনো দিনের খেলাধুলাকে মানুষের কাছে তুলে আনতে এই ভাবনা নিয়েছি। হারানো সেই খেলার সামগ্রী দিয়েই মণ্ডপ হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, এতে করে কিছুটা হলেও সেই সব খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
অন্যদিকে, ১২তম বর্ষে পদার্পণ করল বারাসতের নবপল্লি কাঁঠালতলার দুর্গাপুজো। উদ্যোক্তারা একটু অন্যরকমভাবে দুর্গাপুজো করতে চলেছেন। এবার প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে মানুষের জীবন্ত সমস্যাকে সামনে রেখেই। কারণ, বারাসত শহর সর্বোপরি পুজো মণ্ডপ লাগোয়া এলাকায় রাস্তা দখল করে দিনের পর দিন বেআইনি পার্কিং হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, পড়ে থাকছে গৃহস্থের আবর্জনা। ছড়াচ্ছে দূষণ। এসব থেকে মুক্তির জন্য মানুষের কী কী করণীয় এবং সমস্যাগুলির প্রতি প্রশাসনের নজর আনতেই থিম ভাবনা নিয়েছে এই পুজো কমিটি। পার্কিং, আবর্জনা বা বহিরাগতদের আড্ডার ফলে এলাকার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার প্রতিবাদই ঘিরে থাকবে মণ্ডপকে। পুজো কমিটির সভাপতি তাপস দাস, বলেন আমরা পুজোর বাজেট কাটছাঁট করে স্থানীয় অসহায় দুঃস্থ শিশুদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। বারাসত, হৃদয়পুর সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি স্টেশনের পথ শিশুদের আমরা বস্ত্রদান করব। ইতিমধ্যেই, ওই শিশুদের পোশাকের মাপও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি তাঁদের পেটপুরে দু’বেলা খাবার খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এলাকার জীবন্ত সমস্যাগুলি যাতে প্রশাসনের নজরে আসে, সেই দিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।