Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পুজোর আগে ‘দুগ্গাছাতু’, বাড়তি আয়ের দরজা খুলছে ঝাড়গ্রামে

আশ্বিনা টানের দিনে, কাড়ান ছাতুর পার্বণী, আইসব্যে জামাই রাইত্যে, দুগ্গা ছাতু দিব উয়ার পাত্যে...।

পুজোর আগে ‘দুগ্গাছাতু’, বাড়তি আয়ের দরজা খুলছে ঝাড়গ্রামে
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: আশ্বিনা টানের দিনে, কাড়ান  ছাতুর পার্বণী, আইসব্যে  জামাই  রাইত্যে, দুগ্গা ছাতু দিব উয়ার পাত্যে...। 

Advertisement

আশ্বিন মাস শুরু হলেই  জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের গলায় শোনা যায় এই ছড়া। শাল, পিয়াল, মহুলের জঙ্গলে ভেজা মাটি ফুঁড়ে মাথা তোলে শত শত সাদা ছাতার মতো ছত্রাক। স্থানীয়দের ভাষায় যা ‘দুগ্গাছাতু’, ‘কাড়ান ছাতু’ বা ‘পরব ছাতু’। অরণ্যভূমির এই মরসুমি ফসলগ্ৰামীণ মানুষদের বাড়তি আয়ের দরজা খুলে দেয়। 
বর্ষা বিদায়ের মুখে ভাদ্রের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিনের মধ্যভাগ পর্যন্ত দুগ্গাছাতুর মরশুম। জঙ্গলে পচা পাতার স্তর, মাটির আর্দ্রতা ও  ভাদ্র-আশ্বিনে দুগ্গা ছাতুর জন্য এটিই উপযুক্ত পরিবেশ।ভোর হতেই  ছাতু সংগ্ৰহে  জঙ্গলের পথে মহিলারা বেরিয়ে পড়েন। অভিজ্ঞ চোখে জঙ্গলের গভীরে মাটির ফাঁকে গজিয়ে ওঠা ছাতু তাঁরা খুঁজে নেন। সতর্কভাবে মাটি থেকে ছাতু তুলতে হয়। কান্ড ভেঙে গেলে ছাতু কিন্তু নষ্ট হতে পারে। ঝুড়ি ভরতি ছাতু নিয়ে গ্ৰামীণ মহিলারা স্থানীয় হাটে বেচতে আসেন। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার জঙ্গলে নানা ছত্রাক দেখতে পাওয়া যায়। জঙ্গলের মধ্যে জন্ম নেওয়া ছাতুদের আলাদা পরিচয় রয়েছে। উই ছাতু উই  ঢিবির সামনে জন্মায়। বালি ছাতু জন্মায় বালিমাটিতে। দুগ্গা বা কাড়ান ছাতু শরৎকালে জন্মায়। জঙ্গলে‌ বিভিন্ন সময়ে কমলা ছাতু, কান ছাতু , জীবন ছাতু, কাঠ ছাতু, শুকনা ছাতু, পিঠা ছাতু, ধুলা  ছাতু, ঝিনুক ছাতু দেখা যায়। যদিও এসব ছাতুর অধিকাংশই খাওয়া যায় না। প্রধানত বালি, পুয়াল, কুড়কুড়ি ও দুগ্গা ছাতু খাওয়া যায়। দুগ্গা ছাতুর কদর সবচেয়ে বেশি। শহরের সবজি মার্কেট, লোকাল বোর্ড ও উড়ালপুল সংলগ্ন শিবমন্দির সংলগ্ন এলাকায় ৬০০ টাকা কেজি দরে দুগ্গা ছাতু বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা সেই ছাতু কিনতে ভীড় জমাচ্ছেন। জেলার হোটেল, রিসর্ট, হো স্টেমগুলিতে বিভিন্ন  পদের দুগ্গা ছাতুর খাবার  পরিবেশিত হয়। ঝাড়গ্রাম শহরের ছাতু বিক্রেতা চক্রধর মাহাত বলেন, বাজারে ছ’শো টাকা কেজি দরে দুগ্গা ছাতু বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা তা কিনে নিয়ে নিচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুগ্গা ছাতুর মরশুম শেষ হবে। পুজোর আগে বাড়তি আয়ের জন্য ছাতু বিক্রি করছি। পশ্চিম মেদিনীপুরের সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমন প্রতিহার বলেন, বৃষ্টির পর রোদ উঠলে জঙ্গলের বিশেষ বিশেষ জায়গায় দুগ্গা ছাতু জন্মায়। সব জায়গায় কিন্তু দুগ্গা ছাতু দেখা যায় না। জঙ্গলের যে সব জায়গায় প্রাণের প্রাচুর্য বিশেষ করে পিঁপড়ে, কীট পতঙ্গ , পোকামাকড় ও সরীসৃপের আনাগোনা বেশি সেখানে এই ছাতু বেশি দেখা যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ