Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৭০০ থেকে হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে দুগ্গা ও কাড়ান ছাতু

সামনেই দুর্গাপুজো। আর পুজোর মরশুম মানেই পেট পুজো মাস্ট। সেই কথা মাথায় রেখে মেদিনীপুর শহরের কলেজ মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় দুগ্গা আর কাড়ান ছাতু কেনার জন্য উপচে পড়ছে ভিড়।

৭০০ থেকে হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে দুগ্গা ও কাড়ান ছাতু
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: সামনেই দুর্গাপুজো। আর পুজোর মরশুম মানেই পেট পুজো মাস্ট। সেই কথা মাথায় রেখে মেদিনীপুর শহরের কলেজ মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় দুগ্গা আর কাড়ান ছাতু কেনার জন্য উপচে পড়ছে ভিড়। মুখে হাসি ফুটেছে ঝাড়গ্রাম সহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা ছাতু বিক্রেতাদের মুখে। তবে এবার ছাতু দাম আকাশছোঁয়া। যেন খাসির মাংসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ভালো মানের ছাতু প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুজোর মুখে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ কিলো ছাতু বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের কথায়, এবছর দুগ্গা ছাতুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি ঝাড়গ্রাম থেকে আসা মানুষবা। এবছর পুজোয় নতুন জামা হবে। তবে বিভিন্ন জঙ্গলে হাতির ভয় থাকায় বহু মানুষ ছাতু কুড়োতে যেতে পারেনি। তাই চাহিদার চেয়ে জোগান অনেকটাই কম। আর তাতেই দাম বেড়েছে। এদিন ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ী থেকে ছাতু বিক্রি করতে এসেছিলেন ঝন্টু আহির। তিনি বলেন, পুজোর সময় বিক্রি দারুন হবে বলে এসেছিলাম। বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছাতু কিনতে আসছেন। পুজোর সময় বাড়তি রোজগার হওয়ায় স্বস্তি। 

Advertisement

এদিন মেদিনীপুর শহরে ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় ব্লকের ভীমপুর থেকে এসেছিলেন ছাতু বিক্রেতা চন্দনা মাহাত। তিনি বলেন, খুব কষ্ট করে ছাতু কুড়োতে হয়। ভাবছিলাম বিক্রি কম হবে। কিন্তু দেখছি শহরে ছাতুর বেশ চাহিদা আছে। ছাতুর মান অনুসারে দাম নির্ভর করে। আবার অনেকে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরেও বিক্রি করছেন।
প্রসঙ্গত, প্লাস্টিকের প্যাকেটে ছাতুর বিক্রি দিন দিন বাড়ছে। যা সারাবছরই পাওয়া যায়। কিন্তু জঙ্গলমহলের বাজারে এই সময়ে ‘কাড়ান ছাতু’ নিয়ে কাড়াকাড়ি হওয়ার উপক্রম হয়। বর্ষার শেষে, মা দুর্গার আসার মুখে বনেজঙ্গলে এই মাশরুম গজায়। তাই একে ‘দুগ্গাছাতু’ বা ‘পরব ছাতু’-ও বলা হয়। প্রতিবছর পুজোর আগে জঙ্গলমহলের আদিবাসী-মূলবাসীরা কাড়ান ছাতু সংগ্রহ করে বাড়তি আয় করেন। ভোরের আলো ফোটার আগে তাঁরা জঙ্গলে ছাতু তুলতে যান। চারিদিক অন্ধকারে ডুবে থাকায় বিপদও থাকে। কারণ একদিকে সাপ ও বিষাক্ত পোকা। এ ছাড়াও হাতির ভয়। এক ঘণ্টায় দেড় থেকে দু’ কেজি ছাতু সংগ্রহ করেন এক এক জন গ্রামবাসী। সেই ছাতু বিক্রি করলে পুরোটাই লাভ হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ সরাসরি হাটে এসে বিক্রি করেন। কেউ আবার ফড়ে বা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু পুজোর সময়ে ভালো বিক্রি হওয়ায় অনেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সদর শহরে চলে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের বাজারে বালি ছাতু বিক্রি হচ্ছে তিনশো থেকে চারশো টাকা কেজিতে। 
কাড়ান ছাতু ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে দুগ্গা ছাতু বিক্রি হচ্ছে সাতশো থেকে আটশো টাকা প্রতি কেজিতে। মেদিনীপুরের এক হোটেল মালিক বলেন, শহরের বিভিন্ন হোটেলে ছাতুর নানা পদ রান্না করা হয়। সুস্বাদু ছাতু খেতে অনেকেই ভিড় করেন। তাই মাছ ও মাংসের সঙ্গে এই পদের বিক্রিও ভালো। এদিন শালবনীর বাসিন্দা রূপা মাহাত ছাতু বিক্রি করতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, মানুষ উৎসবের মেজাজে আছে। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় ছাতুর মানও ভালো। তাই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ