Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলের গাফিলতিতে মৃত্যু ভবঘুরের সদ্যোজাত সন্তানের, তুমুল বিক্ষোভ রামপুরহাট স্টেশনে

ডেপুটি স্টেশন ম্যানেজার একটি ‘মেমো’ দিতে দেরি করায় প্রাণ চলে গেলে এক সদ্যোজাতের

রেলের গাফিলতিতে মৃত্যু ভবঘুরের সদ্যোজাত সন্তানের, তুমুল বিক্ষোভ রামপুরহাট স্টেশনে
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ডেপুটি স্টেশন ম্যানেজার একটি ‘মেমো’ দিতে দেরি করায় প্রাণ চলে গেলে এক সদ্যোজাতের। রেলের এই চূড়ান্ত গাফিলতি ও অমানবিকতার সাক্ষী রইল রামপুরহাট জংশনের অগণিত নিত্যযাত্রী। রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। যাত্রী বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় রেলের চিকিৎসক থেকে ডেপুটি স্টেশন ম্যানেজারকে। ক্ষোভ উগরে দিয়েছে জিআরপিও। 

Advertisement

স্বামী পরিত্যক্তা বছর আঠাশের মুন্নি মার্ডির বাড়ি বর্ধমানে। বছর দেড়েক আগে তাঁর ঠাঁই হয় বর্ধমান জংশনে। দিন পাঁচেক আগে তিনি গর্ভবতী অবস্থায় রামপুরহাট জংশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের চলমান সিঁড়ির পাশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভিক্ষে করেই দিন চলে। শুক্রবার সকাল ন’টা নাগাদ তাঁর প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। চিৎকার শুনে দৌড়ে আসেন যাত্রীরা। তাঁরা খবর দেন ডেপুটি স্টেশন ম্যানেজারের অফিসে। কিন্তু চিকিৎসক আসতে দেরি করে। এর মধ্যেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। রামপুরহাটের লোকোপাড়ার বাসিন্দা আলম শেখ বলেন, চিকিৎসক আসতে দেরি করায় আমরা কয়েকজন মিলে টাকা জোগাড় করে টোটো ডেকে নিয়ে আসি। কিন্তু জিআরপি বাধা দেয়। তারা বলে, মেমো পাওয়া যায়নি। এভাবে প্রায় একঘণ্টা কেটে যায়। অভিযোগ, কোনও মহিলা পোর্টারেরও দেখা মেলেনি। এরই মধ্যে সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়। এদিকে স্টেশন থেকে রেল হাসপাতালের দূরত্ব মিনিট দুয়েকের। অথচ চিকিৎসক রবিকান্ত ভকত আসেন ন’টা বেজে ৪২ মিনিট নাগাদ। তখনই আসেন ডেপুটি স্টেশন ম্যানেজার নমন কুমারও। যাত্রীদের একাংশ তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। 
বনগাঁর বাসিন্দা সমীর বিশ্বাস বলেন, মহিলাও মারা যেতে পারতেন। এখানে যাত্রীদের চিকিৎসার ঠিকঠাক ব্যবস্থা নেই। বারবার বলার পরও চিকিৎসক আসতে এক ঘণ্টা লাগে। সদ্যোজাতের মৃত্যুর দায় কে নেবে! অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 
ক্ষোভের মুখে চিকিৎসক বলেন, আমাদের ইনডোর সার্ভিস। একটু আসতে সময় লাগবে। তার মধ্যে যদি কোনও ইমারজেন্সি হয় তাহলে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া যেত। পরে তিনি বলেন, একঘণ্টা দেরি হয়নি। এরপরই যাত্রীরা প্রবল ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে বলেন। বেগতিক বুঝে টোটোয় চাপিয়েই মহিলা ও তাঁর মৃত সন্তানকে রামপুরহাট মেডিক্যালে পাঠায় রেল কর্তৃপক্ষ। 
রেল কর্তাদের গাফিলতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে জিআরপিও। কনস্টেবল আব্দুল্লা শেখ বলেন, ন’টা বেজে পাঁচ মিনিটে মহিলার চিৎকার শুনে প্রথমে আইসিকে জানাই। তাঁর নির্দেশে ডিএসএমের কাছে যাই। তিনি চিকিৎসককে ফোন করেন। কিন্তু ইমারজেন্সি জেনেও চিকিৎসক পাঁচ মিনিট বলে পৌনে দশটা নাগাদ আসেন। জিআরপির আইসি সুখেন্দু মণ্ডল বলেন, মেডিক্যালে নিয়ে যেতে মেমোর জন্য ডেপুটি স্টেশন ম্যানেজারের কাছে ন’টা ১০ মিনিট থেকে দরবার করেছি। কিন্তু পাইনি। চূড়ান্ত গাফিলতি। প্রায়ই ঘটছে এমন ঘটনা। গাড়ি দেওয়ার রেলের কর্তব্য হলেও তা মেলে না। এদিন আমরাই কাপড় দিয়ে মহিলাটিকে ঘিরে রেখে সন্তান প্রসব করাই।  নমন কুমার বলেন, ন’টা বেজে ১০ মিনিটে খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে ফোন করে জানাই। চিকিৎসক একজন স্টাফ পাঠান। রেলের না থাকায় বাইরের দু’টি অ্যাম্বুলেন্স চালককে ফোন করি। কিন্তু তারা আসতে চায়নি। কিন্তু আপনি মেমো দিলে তো জিআরপি ওই মহিলাকে মেডিক্যালে নিয়ে যেতে পারতেন? উত্তরে তিনি বলেন, এর বেশি কিছু বলব না। এখন ব্যস্ত রয়েছি।  স্টেশনে রেলকর্তার সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ