সংবাদদাতা, বজবজ: ইঁদুরের দৌরাত্ম্যে বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে পুজালি ব্রিজ। গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে সেতুর নীচের মাটি আলগা করে দিয়েছে তারা। সেই মাটি যতক্ষণ না ফের শক্তপোক্ত করা হচ্ছে, ততদিন ওই ব্রিজ দিয়ে ভারী গাড়ির চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূর্তদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা ওই সেতু সরেজমিনে পরীক্ষার পর এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। যে অংশের মাটি সবচেয়ে বেশি আলগা হয়ে পড়েছে, সেই জায়গাটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। যাতে চালকদের বিষয়টি নজরে আসে। সেতুর এই হালের কথা তাঁরা পুলিস, পুরসভা ও প্রশাসনের কর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন পুরদপ্তরের আধিকারিকরা।
ধেড়ে থেকে নেংটি— লক্ষ লক্ষ ইঁদুরের বাস পুজালি ব্রিজের নীচে। ২১ মিটার লম্বা ও ৭ মিটার চওড়া এই সেতুর মূল কাঠামোয় তেমন কোনও সমস্যা নেই। তবে অ্যাপ্রোচ রোডের দশা সব থেকে খারাপ। চারদিকে অসংখ্য গর্ত। এই গর্তেই ঘর-সংসার মুষিককূলের। দিনে তেমন দেখা না মিললেও রাত বাড়লেই দৌরাত্ম্য বাড়ে তাদের। ভূগর্ভে তাদের চলাফেরার রাস্তা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত তা বোঝার উপায় নেই। সেই সুড়ঙ্গ ব্রিজের মূল কাঠামোর নীচে পর্যন্ত চলে গিয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। তবে যাই হোক, মাটি আলগা হওয়ায় এই ব্রিজ যে ভারী গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত নয়, তা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন পুর দপ্তরের কর্তারা।
ইঁদুরের উপদ্রবের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন পুজালি পুরসভার প্রশাসক তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাপস বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমরাই বিষয়টি পূর্তদপ্তরকে জানিয়েছিলাম। তাঁরা ভারী গাড়ি চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা বলেছেন। কিন্তু সমস্যা হল, পুজালি পুরসভার অফিস থেকে এগলেই পড়ে এই ব্রিজ। ব্রিজের একদিকে চারটি ওয়ার্ড, অন্য পাড়ে ১২টি ওয়ার্ড। পুর এলাকায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষের বাস। পাশাপাশি সংলগ্ন মায়াপুর এবং রাজীবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষ নিত্য যাতায়াত করেন এই ব্রিজ দিয়ে। সব থেকে বড় কথা হল, এই এলাকায় একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। তার ছাই লরি বোঝাই হয়ে চলে যায় অন্যত্র। এর বাইরেও ভারী গাড়ির ওঠানামা রয়েছে এই সেতুতে।
তাপসবাবু বলেন, পুজালির বাসিন্দাদের কলকাতার দিকে যেতে হলে এই ব্রিজ পেরিয়ে বজবজ হয়েই যেতে হয়। এছাড়া আর বিকল্প পথ নেই। ফলে লরি বা ট্রাক বন্ধ হয়ে গেলে এই এলাকার মানুষের সমূহ বিপদ হবে। সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করেই আমাদের এগতে হবে। -নিজস্ব চিত্র