দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, সমুদ্র নামতে দেওয়া হল না পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বুধবার থেকে রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ছিল বৃষ্টির প্রকোপ। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে বৃষ্টি হয়েছ প্রায় ৮২ মিলিমিটার।      

Advertisement

বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল ঝোড়ো হাওয়া। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তা চলে। বেলা বাড়তেই বৃষ্টি থেমে গেলেও, আকাশ মেঘলা ছিল। এদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে গঙ্গাসাগর, বকখালি ও মৌসুনিদ্বীপে সমুদ্র স্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এখানে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন। এদিন বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা গঙ্গাসাগর ও বকখালি এসেছিলেন। তবে সমুদ্র স্নান না করেই তাঁদের বাড়িতে ফিরতে হয়েছে। এমনকি ভিন রাজ্য থেকে গঙ্গাসাগরে আসা পুণ্যার্থীরা গঙ্গা স্নানের পর কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা তাঁদের সমুদ্রে নামতে বাঁধা দেন। এদিনও উপকূলীয় অঞ্চলের এলাকাবাসীদের ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে মহকুমা ও ব্লক অফিসে সারাক্ষণই কন্ট্রোল রুম খুলে রাখা হয়েছিল।               
টানা বৃষ্টিতে কৃষি কাজে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আমন ধানের চাষিরা চিন্তায় পড়েছেন। কারণ, জমির সব ধান গাছে শিস বেরিয়ে পড়েছে। এছাড়াও বহু জমির ধান পেকে গিয়েছে। দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর ধান কাটার কাজ শুরু হওয়ার কথা। এই সময় অতিবৃষ্টি হলে ধান গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও শীতকালীন সবজি চাষেও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম খুলে রেখে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হবে।’