নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দফায় দফায় বৃষ্টি নামায় কুমোরটুলিতে মূর্তি তৈরির কাজ পড়েছে সমস্যায়। গণেশ ও দুর্গা তৈরির কাজ গিয়েছে থমকে। চিন্তার ভাঁজ মৃৎশিল্পীদের কপালে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দফায় দফায় বৃষ্টি নামায় কুমোরটুলিতে মূর্তি তৈরির কাজ পড়েছে সমস্যায়। গণেশ ও দুর্গা তৈরির কাজ গিয়েছে থমকে। চিন্তার ভাঁজ মৃৎশিল্পীদের কপালে।
শিল্পীদের বক্তব্য, ‘সামনে গণেশ পুজো। এরকম আবহাওয়া থাকলে নির্ধারিত সময় প্রতিমার কাজ শেষ করে উদোক্তাদের দেওয়া সম্ভব হবে না। বৃষ্টির জেরে কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। দুর্গামূর্তি তৈরির মধ্যে গণেশ তৈরি এমনিতেই চাপের। তার উপর খাঁড়ার ঘা দিচ্ছে বৃষ্টি।’ মঙ্গলবার পটুয়াপাড়ায় দেখা গিয়েছে, বৃষ্টির ফলে অনেক শিল্পীর ঘরে কাজকর্ম বন্ধ। কোথাও ত্রিপল ও প্লাস্টিক টাঙিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে আধ বানানো মূর্তি বাঁচানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিমা ভিজছে। কোথাও দেখা গিয়েছে, গণেশের শরীরে সাদা রঙের প্রলেপ ধুয়ে যাচ্ছে চুঁইয়ে আসা জলে। মৃৎশিল্পী সমিতির কর্মকর্তা বাবু পাল বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই প্রতিমা তৈরির কাজ শিকেয় ওঠে। এবারও তাই হচ্ছে। তার উপর স্যাঁতসেতে আবহাওয়া। জল‑কাদা ঘেঁটে, বৃষ্টিতে ভিজে কারিগররা মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সবমিলিয়ে সমস্যায় মৃৎশিল্পীরা।’
শিল্পী রাজা পাল বলেন, ‘একটি ১০ ফুটের গণেশের বরাত এসেছে। ত্রিপল টাঙিয়ে কাজ করলেও বৃষ্টিতে মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বড্ড চিন্তার মধ্যে আছি।’ শিল্পী চায়না পাল বলেন, ‘এখন পুজোর মরশুম। কাজের ব্যস্ততা তুঙ্গে। এই সময় বৃষ্টিতে আমাদের কাজ করতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। বাইরে মাটি ছানার কাজ করা যাচ্ছে না। জলে যাচ্ছে ধুয়ে। প্রতিমা ঢাকা দেওয়া সত্ত্বেও ভিজে যাচ্ছে।’ শিল্পী সমর পাল, বরুণ পাল বলেন, ‘সোমবার বৃষ্টির কারণে কাজ শিকেয় উঠেছিল। বিকেলে আবাহাওয়া একটু ভালো থাকায় কিছু কাজ করা গিয়েছিল। মঙ্গলবার ফের যে কে সেই অবস্থা।’
গণেশ পুজো দোরগোড়ায়। এগিয়ে এসেছে দুর্গাপুজোও। এ সময় নাওয়াখাওয়ার সময় পায় না কুমোরটুলি। প্রবল ব্যস্ততা থাকে। তার মধ্যে বৃষ্টি অসুরের মতো আছড়ে পড়েছে। ফলে গতি হারিয়েছে কাজ। তাই চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটছে শিল্পীদের।- নিজস্ব চিত্র