Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দত্তপুকুরে যুবকের মুণ্ডহীন, অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য

দত্তপুকুরে যুবকের মুণ্ডহীন, অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মাসখানেক আগে বারাসত শহরের একটি পুকুর থেকে মুণ্ডহীন এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পরিচয় এখনও অজানা। বারাসতের পর একই ধরনের ঘটনা ঘটল পাশের থানা দত্তপুকুরে। চাষের জমি থেকে মুণ্ডহীন এক যুবকের অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধারে সোমবার রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। মুণ্ডহীন দেহের হাত-পা বাঁধা ছিল। মুণ্ডর হদিশ পেতে আনা হয় পুলিস-কুকুর। ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা একটি জলাশয়ে ডুবুরি ও জাল নামিয়ে চলে তল্লাশি। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত হদিশ মেলেনি। এদিকে, দেহের পাশ থেকে রক্তমাখা মদের গ্লাস সহ চিপসের প্যাকেট উদ্ধার করেছে পুলিস। সরস্বতী পুজোর মধ্যে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ব্যক্তিগত আক্রোশ, নাকি সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে এই নৃশংস ঘটনা, সেই উত্তর খুঁজছে পুলিস।
Advertisement
বারাসত ১ ব্লকের ছোট জাগুলিয়া পঞ্চায়েতের মালিয়াপুর এবং বাজিতপুর দুই গ্রামের মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে চাষের জমি। সোমবার সাতসকালেই চাষের জমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যুবকের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এক মহিলা। তাঁর চিৎকারে এলাকার মানুষ জড়ো হন। পুলিস এসে দেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহ নগ্ন অবস্থায় ছিল। হাত এবং পা গেঞ্জি এবং জামা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাঁর যৌনাঙ্গেও ছিল ক্ষতচিহ্ন। মৃতের হাত-পা অর্ধদগ্ধ ছিল। পাশ থেকে একটি কেরোসিন তেলের জার সহ দু’টি রক্তমাখা মদের গ্লাস এবং চিপসের প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, খুনের আগে যুবককে মদ্যপান করানো হয়েছিল। অতিরিক্ত মদ্যপান করিয়ে যুবককে খুন করা হয়েছে। আর প্রমাণ লোপাট এবং পুলিসের তদন্ত বিভ্রান্ত করতে যৌনাঙ্গের উপরের অংশে ধারালো কিছু দিয়ে ক্ষত করা হয়েছে। গোটা দেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শুধু হাত ও পা অর্ধ অগ্নিদগ্ধ। নৃশংস খুনে সুপারি কিলার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিসের অনুমান। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ মাহির, নিজাম আলি বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা আগে ঘটেনি। রাতের দিকেও স্টেশনে যাতায়াত করেন মানুষ। আমাদের ধারণা বেশি রাতে কিংবা ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, এটা পরিকল্পনা মাফিক খুনের ঘটনা। কোনও পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়নি। সেই ক্ষেত্রে খুনের সঙ্গে পরিবারের লোকজনও যুক্ত থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে দু’টি মদের গ্লাসও উদ্ধার হয়েছে। তাতেই পরিষ্কার এদিন ভোরের দিকে খুনের আগে মদ্যপান করানো হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে খুনের কারণ জানা যাবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ