নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দত্তপুকুর খুনকাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার পুনর্নির্মাণ হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে হজরত লস্করের পচাগলা মুণ্ড। কিন্তু এখনও উদ্ধার হয়নি পুলিসি তদন্তের ‘জিয়নকাঠি’ হজরতের মোবাইল। ধৃত সুফিয়া বিবির বয়ান অনুযায়ী মঙ্গলবার বামনগাছি স্টেশন লাগোয়া নয়ানজুলিতে ডুবুরি নামিয়ে খোঁজ করা হলেও উদ্ধার হয়নি মোবাইল। বুধবার পাম্প দিয়ে জল সরিয়ে দেওয়া হলেও মেলেনি সেই ফোন। তবে, খুনের ক্ষেত্রে নয়া তথ্য পেয়েছে পুলিস। ৩ ফেব্রুয়ারি হজরতের মৃতদেহ উদ্ধারের সময় ভিড়ের মধ্যে মিশেছিল ধৃত মাস্টারমাইন্ড মহঃ জলিল। সে ও তার স্ত্রী পুলিসের তদন্তের গতি প্রকৃতির দিকে নজর রেখেছিল। এরমধ্যে নিহত হজরতের স্ত্রী ফোন করে সুফিয়াকে। জানতে চায় তাঁর স্বামীর খোঁজ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ফোন বন্ধ করে দেয় সুফিয়া। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি মুখে কালো মাস্ক পড়ে জলিল চলে যায় কলকাতা স্টেশন। পরে ট্রেন ধরে জম্মু। সেখানে গিয়ে জলিলের চোখ ছিল মোবাইলের খবরে। স্ত্রী গ্রেপ্তারের খবর জানার পরেই জলিল চলে যায় জম্মুর সাম্বাতে। ছক ছিল পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পারেনি। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত হজরত লস্কর, ওবাইদুল গাজি ও মহম্মদ জলিলরা ছিল ‘ক্রাইম পার্টনার।’ চুরি, ডাকাতির সামগ্রীর ‘মজুতদার’ ছিল হজরতই। কিন্তু, পার্টনারদের সেই ভাগ বছরখানেক ধরে দিত না হজরত। উল্টে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করে সবকিছু ‘হাতাতে’ পার্টনারদের ধরিয়ে দিত! এনিয়ে হজরতের উপর আক্রোশ তৈরি হয় জলিল ও পার্টনারদের। এছাড়া জলিলের জেলে থাকার সময় সুফিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল হজরতের।



