Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দত্তপুকুরে খুন: পুনর্নির্মাণে ব্লু-প্রিন্ট খোলসা করল ধৃত জলিল, অবশেষে উদ্ধার মুণ্ড

দত্তপুকুরে খুন: পুনর্নির্মাণে ব্লু-প্রিন্ট খোলসা করল ধৃত জলিল, অবশেষে উদ্ধার মুণ্ড
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জমির আল ধরে যাচ্ছিল ওরা। প্রথমে ছিল সুফিয়া বিবি। ওড়নাতে লুকানো ছিল হাতুড়ি। মাঝে ছিলেন নিহত হজরত লস্কর। হাতে ব্যাগের মধ্যে ছিল মদের বোতল ও চিপসের প্যাকেট। পিছনে জলিল লুকিয়ে রেখেছিল ধারালো দা। পূর্ব পরিকল্পনা মতো জলিল পিছন থেকে হজরতের ঘাড়ে আচমকা দায়ের কোপ মারে। আর, সুফিয়া হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ধারালো দায়ের কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন হজরত। শেষে জলিল সেই দা দিয়ে হজরতের মুণ্ড কাটে। একইসঙ্গে যৌনাঙ্গও কেটে দেয়। মুণ্ড কাটার সময় হজরতের হাত-পা চেপে ধরে সুফিয়া। দত্তপুকুর কাণ্ডে ধৃত দুই মূল অভিযুক্ত মহঃ জলিল গাজি ও সুফিয়া বিবিকে নিয়ে মঙ্গলবার পুনর্নির্মাণে এই তথ্য জানল পুলিস। হাড়হিম করা এই ঘটনা জানার পর বামনগাছি স্টেশন লাগোয়া এলাকায় একটি জলাশয় থেকে হজরতের মুণ্ড উদ্ধার হল। ওই মাথা ছেলে হজরতের বলে দাবি করে বুক চাপড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা আফিয়া বিবি। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই জলিল ও সুফিয়া হজরতকে খুন করে বলে নিশ্চিত পুলিস। পাশাপাশি সুফিয়ার সঙ্গে হজরতের শারীরিক সম্পর্কের কথা জেনে গিয়েছিল জলিল।
Advertisement
৩ ফেব্রুয়ারি দত্তপুকুরের বাজিতপুরে উদ্ধার হয় হজরতের মুণ্ডহীন দেহ। জম্মু থেকে মূল অভিযুক্ত জলিল গাজিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এদিন, জলিল এবং সুফিয়াকে নিয়ে খুন কাণ্ডের পুনর্নির্মাণ করে পুলিস। বারাসতের এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্কা অনন্তের নেতৃত্বে বিরাট পুলিস অকুস্থলে আসে। ফোনের সিমকার্ড কোথায় মাটিতে পুঁতেছিল, সেটা পুলিসকে দেখিয়েছে সুফিয়া। প্রমাণ লোপাট করতেই নিহত যুবকের দেহ কেরোসিন ঢেলে পোড়ানোর চেষ্টা করে তারা। কাটা মুণ্ড নিয়ে জলিল ও সুফিয়া প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে গিয়ে একটা জলাশয়ে ফেলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় মুণ্ডটি। পাশাপাশি কলকাতা পুলিসের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে নামানো হয় পাশের জলাশয়ে মোবাইলের খোঁজে। সেটা অবশ্য উদ্ধার হয়নি। নিহত হজরতের মা আফিয়া বিবি, বাবা হানিফ লস্কর ও স্ত্রী সাহিনা লস্করকে নিয়ে আসে পুলিস। খুনের পিছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ মূল বলে পুলিস নিশ্চিত। হজরত, জলিল, ওবাইদুল চুরি, ডাকাতি করত। মূল স্রোতে ফেরার চেষ্টা করছিল হজরত। সুফিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় তার। জেরায় জলিল বলেছে, এই সম্পর্কের কথা জানার পরেই তার রাগ চরমে ওঠে। নিহতের মা আফিয়া বিবি বলেন, আমার কোল যারা খালি করল, তাদের ফাঁসি চাই। স্ত্রী সাহিনা বলেন, জলিল ফোন করে ডেকেছিল। রাতে আমার সঙ্গে কথাও হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকেই দেখি ফোন সুইচড অফ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ