নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পুলিসকে ধোঁকা দিতে দত্তপুকুর খুন কাণ্ডে ধৃত জলিল কখনও চা বিক্রেতা, কখনও ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশ ধরে। শুধু তাই নয়, জম্মু যাওয়ার আগে হরিয়ানাও গিয়েছিল সে। তবে কিছুতেই শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিস তাকে পাকড়াও করেছে। আজ, শনিবার জলিলকে নিয়ে বারাসতে পৌঁছবে পুলিসের বিশেষ টিম। প্রাথমিক জেরায় জলিল স্বীকার করেছে, ধারালো হাঁসুয়া দিয়েই মুণ্ড কেটেছিল সে। তবে তা কোথায় ফেলেছে খোলসা করছে না। পুলিসের দাবি, জলিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা। তার সঙ্গে নৃশংস ঘটনায় আরও দু’জন আছে। তারা চোরাপথে বাংলাদেশে পালিয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিস।
Advertisement
পুলিস জেনেছে, খুনের দিন দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার দূরে ভাড়া বাড়িতে বসে হাঁসুয়া ধার দিয়েছিল জলিল। পুলিসের অনুমান, নিহত হজরতের কাটা মুণ্ডর খোঁজ জানে সে। তদন্তকারীদের কথায়, বাংলাদেশে একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত সে। কয়েকবছর আগে এদেশে চলে আসে। বিয়েও করে। নিহত হজরত লস্কর, ওবাইদুল গাজির সঙ্গে জলিলও অপরাধের কাজে সক্রিয়। তারা মূলত বরানগর, বেলঘরিয়া, হাওড়া, হুগলিতে ত্রাস ছিল। কিন্তু হজরত সমাজের মূল স্রোতে ফেরার চেষ্টা করে। তাতেই কি এই খুন, নাকি এর পিছনে বড় কোনও অভিসন্ধি আছে তদন্ত করছে পুলিস। তদন্তকারীদের আরও দাবি, কোনও ফোন সঙ্গে রাখত না জলিল। ফলে, লোকেশন ট্র্যাক করতে চূড়ান্ত সমস্যা হচ্ছিল। পুলিসকে ‘ধোঁকা’ দিতে ছোট ব্যবসায়ী সেজেছিল। সাম্বাতে দূর থেকে বাংলার পুলিস দেখে দৌড় দেয় ছদ্মবেশী জলিল। তবে তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে পুলিস। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝারখড়িয়া বলেন, সাতদিনের ট্রানজিট রিমান্ড নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকলেই বারাসতে পৌঁছে যাবে। বারাসত আদালতে তোলা হবে জলিলকে। হেফাজতে নিয়ে গোটা ঘটনা জানা হবে।



