মেলবোর্ন: ‘নীতীশ’ অর্থাৎ ‘সঠিক পথের অনুসারী’। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভারতীয় দলকে পথ দেখিয়ে নিজের নামের অন্তর্নিহিত অর্থকেই যেন মেলবোর্নের বাইশগজে ফুটিয়ে তুললেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। বক্সিং ডে টেস্টে টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে কখনও ‘পুস্পা’, কখনও ‘বাহুবলী’ হয়ে উঠলেন ২১ বছরের অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের তৃতীয় দিনে অপরাজিত শতরানে রোহিত-ব্রিগেডের মুখ বাঁচালেন তিনি। একটা সময় ফলো-অনের খাঁড়া ঝুলছিল মাথার উপর। ওয়াশিংটন সুন্দরকে পাশে নিয়ে দলকে মুক্তি দিলেন সেই লজ্জার হাত থেকে। ব্যতিক্রমী ইনিংসের মতোই তাঁর সেলিব্রেশনেও ছিল অভিনবত্ব। অর্ধশতরানের পর ‘পুস্পা’ স্টাইলে বোঝালেন ‘নীতীশ ঝুঁকেগা নেহি’। হয়েছেও তাই। দুরন্ত সেঞ্চুরিতে তিনি শুধু আশঙ্কার কালো মেঘই কাটালেন না, দলকেও ফেরালেন লড়াইয়ে। যোগ্য সঙ্গত করেছেন ওয়াশিংটন সুন্দরও। অষ্টম উইকেটে এই দু’জনের ১২৭ রানের জুটিই বক্সিং ডে টেস্টে ভেন্টিলেশন থেকে বের করল ভারতকে। দিনের শেষে স্কোর ৯ উইকেটে ৩৫৮। লড়াকু অর্ধশতরানের পর ওয়াশিংটন আউট হলেও নীতীশ লড়াই জারি রেখেছেন। তবে প্রথম ইনিংসে এখনও অস্ট্রেলিয়ার থেকে ১১৬ রানে পিছিয়ে টিম ইন্ডিয়া।
Advertisement
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি। তাও আবার প্রবল চাপের মুখে মেলবোর্নের ভরা গ্যালারির সামনে। নীতীশের শনিবারের শতরানকে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে বর্ণনা করেছেন সুনীল গাভাসকর। মোটেও অত্যুক্তি করেননি প্রাক্তন মহাতারকা। রক্ষণ ও আক্রমণের অনবদ্য মিশেল দেখে বোঝাই যাচ্ছিল না কেরিয়ারের মাত্র চতুর্থ টেস্ট ম্যাচ খেলছেন ‘এনকেআর’। ১৭১ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছন তিনি। পরিস্থিতির নিরিখে এই সেঞ্চুরির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তো বোল্যান্ডকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাইলস্টোন স্পর্শ করতেই চোখে জল চলে এল কমেন্ট্রি বক্সে বসা রবি শাস্ত্রীর। গ্যালারিতে আনন্দাশ্রু ঝরালেন আরও একজন। তিনি নীতীশের বাবা মুতালিয়া রেড্ডি। উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন গ্যালারিতে থাকা অজি অনুরাগীরাও। নায়ক তখন হাঁটু গেড়ে বসে ব্যাটের হাতলে হেলমেট রেখে ‘বাহুবলী’ সিনেমায় প্রভাসের আদলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে ব্যস্ত। দিনের শেষে ১০টি চার ও একটি ছক্কা সহ ১৭৬ বলে ১০৫ রানে ক্রিজে রয়েছেন তিনি। সঙ্গী মহম্মদ সিরাজ (ব্যাটিং ২)।
হতশ্রী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রোহিত, কোহলিরা দ্বিতীয় দিনেই ড্রেসিং-রুমের পথ ধরেছিলেন। ৫ উইকেটে ১৬৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা ভারত তাকিয়ে ছিল ঋষভ ও জাদেজার দিকে। কিন্তু সেট হয়ে গিয়েও দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো উইকেট ছুড়ে দলকে বিপদে ফেললেন পন্থ (২৮)। জাদেজার ব্যাট থেকেও ১৭ রানের বেশি আসেনি। মনে হচ্ছিল, ফলো-অন অবধারিত। কিন্তু ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থানে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন নীতীশ-ওয়াশিংটন। ভারতের রথী-মহারথীদের গালে সপাটে থাপ্পড় মেরে বুঝিয়ে দিলেন টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে কিভাবে ব্যাট করতে হয়। কামিন্স, স্টার্কদের একের পর এক বাউন্সার চওড়া ব্যাটে শান্ত করলেন তাঁরা। হালকা বৃষ্টির কারণে একটা সময় ম্যাচ স্থগিত করেন আম্পায়াররা। তবুও ছন্দ নষ্ট হয়নি নীতীশদের।
গত অস্ট্রেলিয়া সফরেই গাব্বায় প্রথম ইনিংসে মূল্যবান ৬২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ওয়াশিংটন। এদিন যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত লিয়ঁর বলে স্লিপে খোঁচা দিয়ে ফেরেন ওয়াশি (১৬২ বলে ৫০ রান)। খাতা খুলতে পারেননি বুমরাহ। এখন সিরাজকে নিয়ে চতুর্থ দিনে আরও কিছুটা ঘাটতি কমিয়ে আনাই লক্ষ্য বাহুবলী নীতীশের।
স্কোরবোর্ড: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস- ৪৭৪। ভারত ১ম ইনিংস (১৬৪-৫ এর পর)- পন্থ ক লিয়ঁ বো বোল্যান্ড ২৮, জাদেজা এলবিডব্লু বো লিয়ঁ ১৭, নীতীশ ব্যাটিং ১০৫, সুন্দর ক স্মিথ বো লিয়ঁ ৫০, বুমরাহ ক খাওয়াজা বো কামিন্স ০, সিরাজ ব্যাটিং ২, অতিরিক্ত ১১। মোট (১১৬ ওভারে) ৯ উইকেটে ৩৫৮। উইকেট পতন: ৬-১৯১, ৭-২২১, ৮-৩৪৮, ৯-৩৫০। বোলিং: স্টার্ক ২৫-২-৮৬-০, কামিন্স ২৭-৬-৮৬-৩, বোল্যান্ড ২৭-৭-৫৭-৩, লিয়ঁ ২৭-৪-৮৮-২, মার্শ ২৭-১-২৮-০, হেড ৩-০-১১-০।
কঠিন সময়ে নীতীশ কুমারের বুক চেতানো লড়াই দেখে গর্ব হচ্ছিল। একজন প্রকৃত যোদ্ধা। চাপের মুখে ওর এই সেঞ্চুরি ভারতের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা ইনিংসগুলির তালিকায় জায়গা করে নেবে। সুনীল গাভাসকর
নীতীশের এই ইনিংস স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকেই ওর পারফরম্যান্স আমাকে মুগ্ধ করেছে। নাছোড়বান্দা মনোভাব ও প্রচেষ্টার তারিফ করতে হবে। নিজের দক্ষতার শীর্ষে পৌঁছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দিয়েছে। যোগ্য সঙ্গত করেছে ওয়াশিংটন। ওদের জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সাব্বাস। শচীন তেন্ডুলকর
হতশ্রী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রোহিত, কোহলিরা দ্বিতীয় দিনেই ড্রেসিং-রুমের পথ ধরেছিলেন। ৫ উইকেটে ১৬৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা ভারত তাকিয়ে ছিল ঋষভ ও জাদেজার দিকে। কিন্তু সেট হয়ে গিয়েও দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো উইকেট ছুড়ে দলকে বিপদে ফেললেন পন্থ (২৮)। জাদেজার ব্যাট থেকেও ১৭ রানের বেশি আসেনি। মনে হচ্ছিল, ফলো-অন অবধারিত। কিন্তু ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থানে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন নীতীশ-ওয়াশিংটন। ভারতের রথী-মহারথীদের গালে সপাটে থাপ্পড় মেরে বুঝিয়ে দিলেন টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে কিভাবে ব্যাট করতে হয়। কামিন্স, স্টার্কদের একের পর এক বাউন্সার চওড়া ব্যাটে শান্ত করলেন তাঁরা। হালকা বৃষ্টির কারণে একটা সময় ম্যাচ স্থগিত করেন আম্পায়াররা। তবুও ছন্দ নষ্ট হয়নি নীতীশদের।
গত অস্ট্রেলিয়া সফরেই গাব্বায় প্রথম ইনিংসে মূল্যবান ৬২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ওয়াশিংটন। এদিন যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত লিয়ঁর বলে স্লিপে খোঁচা দিয়ে ফেরেন ওয়াশি (১৬২ বলে ৫০ রান)। খাতা খুলতে পারেননি বুমরাহ। এখন সিরাজকে নিয়ে চতুর্থ দিনে আরও কিছুটা ঘাটতি কমিয়ে আনাই লক্ষ্য বাহুবলী নীতীশের।
স্কোরবোর্ড: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস- ৪৭৪। ভারত ১ম ইনিংস (১৬৪-৫ এর পর)- পন্থ ক লিয়ঁ বো বোল্যান্ড ২৮, জাদেজা এলবিডব্লু বো লিয়ঁ ১৭, নীতীশ ব্যাটিং ১০৫, সুন্দর ক স্মিথ বো লিয়ঁ ৫০, বুমরাহ ক খাওয়াজা বো কামিন্স ০, সিরাজ ব্যাটিং ২, অতিরিক্ত ১১। মোট (১১৬ ওভারে) ৯ উইকেটে ৩৫৮। উইকেট পতন: ৬-১৯১, ৭-২২১, ৮-৩৪৮, ৯-৩৫০। বোলিং: স্টার্ক ২৫-২-৮৬-০, কামিন্স ২৭-৬-৮৬-৩, বোল্যান্ড ২৭-৭-৫৭-৩, লিয়ঁ ২৭-৪-৮৮-২, মার্শ ২৭-১-২৮-০, হেড ৩-০-১১-০।
কঠিন সময়ে নীতীশ কুমারের বুক চেতানো লড়াই দেখে গর্ব হচ্ছিল। একজন প্রকৃত যোদ্ধা। চাপের মুখে ওর এই সেঞ্চুরি ভারতের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা ইনিংসগুলির তালিকায় জায়গা করে নেবে। সুনীল গাভাসকর
নীতীশের এই ইনিংস স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকেই ওর পারফরম্যান্স আমাকে মুগ্ধ করেছে। নাছোড়বান্দা মনোভাব ও প্রচেষ্টার তারিফ করতে হবে। নিজের দক্ষতার শীর্ষে পৌঁছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দিয়েছে। যোগ্য সঙ্গত করেছে ওয়াশিংটন। ওদের জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সাব্বাস। শচীন তেন্ডুলকর



