নয়াদিল্লি: প্রায় তিন দশক পর দিল্লির মসনদ দখল করেছে গেরুয়া শিবির। শেষবার ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রাজধানী শাসন করেছিল বিজেপি। সেবার পাঁচবছরের মেয়াদ পূর্ণ করলেও ‘রাজত্ব’ খুব একটা সুখকর হয়নি। দুর্নীতি থেকে শুরু করে মুল্যবৃদ্ধি—একের পর এক অভিযোগে বেজায় চাপে পড়ে যায় পদ্মপার্টি। মুখরক্ষায় তিন-তিনবার মুখ্যমন্ত্রী বদলাতে হয়েছিল। শেষবার মাত্র ৫২ দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করা হয় সুষমা স্বরাজকে। যদিও ১৯৯৮-এর বিধানসভা নির্বাচনে গদিরক্ষা করতে পারেনি বিজেপি। ভোটে জিতে শীলা দীক্ষিতের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে কংগ্রেস।
Advertisement
১৯৯৩ সালে দিল্লির ভোটে জয়ী হয় বিজেপি। ৭০টির মধ্যে ৪৯টি আসনে জয় পায় তারা। মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন ‘দিল্লি কা শের’ মদনলাল খুরানা। কিন্তু, ১৯৯৫ সালে হাওয়ালা দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়িয়ে যায়। এই ইস্যুতে প্রবল চাপে পড়ে গেরুয়া শিবির। সেইসঙ্গে দলের মধ্যে সাহিব সিং ভার্মার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন খুরানা। বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে বসার ২৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর বিজেপির তরফে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় ভার্মাকে। উল্লেখ্য, তাঁর ছেলে পরবেশ এবার আম আদামি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেবার খুরানাকে সরিয়ে সাহিব সিংকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলেও বিতর্ক বিজেপির পিছু ছাড়েনি। বিজেপি সরকারের আমলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। পেঁয়াজের দাম পৌঁছে গিয়েছিল ৬০ টাকায়! ড্যামেজ কন্ট্রোলে বিধানসভা ভোটের মাত্র ৫২ দিন আগে ফের মুখ্যমন্ত্রী বদল করে গেরুয়া শিবির। দিল্লির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুষমা স্বরাজ। তবে প্রথা ভেঙে মহিলা মুখও বাঁচাতে পারেনি বিজেপিকে। বিধানসভা ফের ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস।



