Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আলিপুরে ড্রাগ কন্ট্রোলের হানা ৪ প্রাইভেট হাসপাতালে, বহু ওষুধের কিউ আর কোড স্ক্যানে মিলল না তথ্য

আলিপুরে ড্রাগ কন্ট্রোলের হানা ৪ প্রাইভেট হাসপাতালে, বহু ওষুধের কিউ আর কোড স্ক্যানে মিলল না তথ্য
  • ৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাকপুর: উত্তর কলকাতার নামকরা একটি প্রাইভেট হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে কিছুদিন আগে জাল অ্যালবুমিন উদ্ধার করেছিল রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। তারপর থেকে স্বাস্থ্যদপ্তর শহরের অন্যান্য প্রাইভেট হাসপাতালে সরবরাহ করা ওষুধের অবস্থা খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এবার শুরুও হয়ে গেল সেই অভিযান। দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর লাগোয়া চারটি প্রাইভেট হাসপাতালের ফার্মেসির ওষুধের অবস্থা খতিয়ে দেখতে হানা দিলেন ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসাররা। এর মধ্যে তিনটি রীতিমতো নামীদামি হাসপাতাল। একটি ছোট নার্সিংহোম। চারটি হাসপাতালের ফার্মেসিরই একাধিক ওষুধের কিউআর কোড স্ক্যান করে ওই ওষুধ সংক্রান্ত কোনও তথ্য (ব্যাচ নম্বর, তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ সহ বিভিন্ন তথ্য) মেলেনি। বেশ কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটায় রীতিমতো স্তম্ভিত ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকরা। ওষুধগুলি কি জাল? নাকি নির্মাতা কোম্পানিগুলির প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে? সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এবার সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারকদের চিঠি পাঠাচ্ছে ড্রাগ কন্ট্রোল। 

Advertisement

এদিকে, বেলেঘাটার চাউলপট্টি রোডের দু’টি দোকানের বিরুদ্ধে জাল ওষুধ রাখা ও বিক্রির অভিযোগে কিছুদিন আগে তাদের ব্যবসা বন্ধ করেছিল স্বাস্থ্যদপ্তর। সেই সূত্রে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের এক ব্যবসায়ী সম্পর্কে খোঁজ নিতে যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছিল স্বাস্থ্যদপ্তর। ড্রাগ কন্ট্রোলের সন্দেহ ছিল, ওই ব্যবসায়ীই জাল ওষুধ চাউলপট্টির দোকানগুলিতে বেচেছেন। কিন্তু চিঠির উত্তরে উত্তরপ্রদেশ সরকার বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছে না, এমনকী অসহযোগিতা করছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। তারা ফের উত্তরপ্রদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে বলে খবর।  
এছাড়া, আমতা-কাণ্ডের ধৃতকে জেরায় উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে  শুক্রবার রাতে খড়দহের একটি দোকানে হানা দেন ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসাররা। সেখানে মিলেছে প্রস্টেটের একটি নামি কোম্পানির জাল ওষুধ। ওই পরিচিত ওষুধটি জাল করে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠায় খড়দহের এক পাইকারি ওষুধ ব্যবসায়ীর দোকানে হানা দিয়েছিলেন ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। সেখান থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রের খবর, আমতার জাল ওষুধ কারবারের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বাবলু মান্নার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল খড়দহের এই কারবারির। বাবলুবাবুর কাছ থেকেই তিনি জাল ওষুধগুলি কিনেছিলেন বলে দাবি করেছেন। এরপর শুক্রবার রাতে ওই দোকানে হানা দিয়ে ওই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট ব্যাচ নম্বরের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি গোডাউনও সিল করে দেওয়া হয়। ভিন রাজ্য থেকে জাল ওষুধ রাজ্যে আসছে বাবলু মান্নাদের মতো ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। ছাড় দিয়েও মোটা টাকার লাভ রাখার লোভে সেগুলি কিনছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। খড়দহেও তেমনই ঘটেছে বলে আশঙ্কা ড্রাগ কন্ট্রোলের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ