Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নরমাংসের স্বাদ নিতে ভবঘুরেকে খুন দিনহাটায়, গ্রেপ্তার মাদকাসক্ত যুবক

নরমাংস খাবে বলে নেশা আসক্ত এক যুবক খুন করল নিরীহ এক ভবঘুরেকে। বৃদ্ধ ভবঘুরে ডেরা বেঁধেছিলেন দিনহাটা-২ নম্বর ব্লকের শুকারুকুটি পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী থরাইখানা গ্রামের শ্মশানে।

নরমাংসের স্বাদ নিতে ভবঘুরেকে খুন দিনহাটায়, গ্রেপ্তার মাদকাসক্ত যুবক
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দিনহাটা: নরমাংস খাবে বলে নেশা আসক্ত এক যুবক খুন করল নিরীহ এক ভবঘুরেকে। বৃদ্ধ ভবঘুরে ডেরা বেঁধেছিলেন দিনহাটা-২ নম্বর ব্লকের শুকারুকুটি পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী থরাইখানা গ্রামের শ্মশানে। শনিবার বিকেলে ওই বৃদ্ধের গলাকাটা দেহ স্থানীয় একটি পুকুর পাড়ে ঝোপের আড়াল থেকে উদ্ধার হয়। নৃশংসভাবে কোপানো হলেও, বৃদ্ধের দেহ ছিল সাফসুতরো। যেমনটা ধুয়ে সাফ করা হয়।

Advertisement

পুলিশের কাছে এ খবর পৌঁছতেই তদন্তে নামে সাহেবগঞ্জ থানা। সন্দেহের তির যায় গ্রামেরই বাসিন্দা নেশায় আসক্ত যুবক ফেরদৌস আলমের দিকে। কিন্তু তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
 এরপর গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে রবিবার রাতে তার নাগাল পান পুলিশ কর্মীরা। গ্রেপ্তার করা হয় ফেরদৌসকে। দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, নরমাংস খাওয়ার জন্যই খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছে। খুনের পর কলের জলে ভবঘুরে বৃদ্ধের দেহটি ধুয়ে সাফ করে ঝোপে লুকিয়ে রেখেছিল বলেও ফেরদৌস স্বীকার করেছে।
 রাতে কোনও একসময়ে তার নরমাংস খাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে এসডিপিও জানিয়েছেন। এদিন সকালে ফেরদৌসকে দিনহাটা মহাকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে চার দিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। 
সাহেবগঞ্জ থানার থরাইখানা গ্রামের এ ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে অসমিয়া সিনেমা ‘আমিষ’এর। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ভৌতিক চলচ্চিত্র। সেখানে দেখানো হয়, এক যুবক উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের মাংস খাওয়ার প্রথা ও খাবারের উপর গবেষণা করেন। ছবিতে দেখা গিয়েছিল, নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর মাংস তিনি রান্না করেন। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল এক মহিলার। পরে তাঁরা বন্ধু হন।
 ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গভীর সম্পর্কে দিকে এগোয়। একসময়ে ওই মহিলাকে নয়া আস্বাদন দিতে নিজের থাই কেটে মাংস খাওয়ান ওই যুবক। অসমিয়া ওই সিনেমার সঙ্গে থরাইখানা গ্রামের ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।
 তবে গ্রেপ্তার হওয়া ফেরদৌস নরমাংস খাওয়ার চেষ্টা বা ভক্ষণ আগে কখনও করেছিল কি না, তাও জানতে চাইছে পুলিশ।  
সীমান্তের ওই গ্রামে কাঁটাতারের অপর পাড়ে শনিবার মিলনমেলা ছিল। গ্রামের লোকেরা সেখানেই ব্যস্ত ছিলেন। সেখান থেকে কিছুটা দূরে একটি শ্মশান রয়েছে। বছর খানেক ধরে ওই ভবঘুরে বৃদ্ধের ঠিকানা ওই শ্মশান। বিকেলে তাঁর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধারে আলোড়ন শুরু হয়ে যায়। নিরীহ ভবঘুরেকে কেন খুন করা হল, তা নিয়ে ধন্দে পড়ে পুলিশ। নিজস্ব সোর্স কাজে লাগায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী একজনের মারফত পুলিশ জানতে পারে, ফেরদৌসকে মৃতদেহটি ধুতে দেখেছেন তিনি।
 সেই খবর মিলতেই আটক করা হয় অভিযুক্তকে। জেরায় ফেরদৌস জানিয়েছে, মাংস খাওয়ার জন্যই খুন করেছে সে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, একাধিকবার নেশামুক্তি কেন্দ্রে ছিল ফেরদৌস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ