শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: কথায় বলে ‘ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশি।’ মহমেডান স্পোর্টিং কর্তাদের দশা তাই। আইএসএলে যোগ্যতা অর্জন করে ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন তাঁরা। ফড়ফড়ানি, তর্জন-গর্জনে কান পাতা দায়। সাত ম্যাচ পরেই ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। লিগ টেবিলে এখন দ্বাদশ স্থানে রেড রোডের পাশের ক্লাব। সবচেয়ে বড় কথা, শনিবার সন্ধ্যায় ন’জনের ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধেও গোল করতে ব্যর্থ ফ্রাঙ্কারা। ম্যাচের পর লাল-হলুদ ফুটবলারদের লড়াইকে কুর্নিশ জানান প্রাক্তন ফুটবলাররা। তাই বলে ফ্রাঙ্কাদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার শামিল।
Advertisement
পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম সাত ম্যাচে মাত্র তিনবার বিপক্ষের জাল কাঁপাতে সক্ষম হয়েছে চেরনিশভ ব্রিগেড। এর মধ্যে দু’টি ক্ষেত্রে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন মিডিও আলেক্সিস ও কাসিমভ। গোলকানা স্ট্রাইকারদের অবদান শূন্য। তাঁদের জামাই আদর করে পুষছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অথচ মরশুমের শুরুতে মানজোকি, ফ্রাঙ্কাদের নিয়ে তুমুল হইচই। মাঠে নামলেই যেন বিপক্ষের ঘুম কাড়বেন! এখন টর্চ জ্বেলেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেকোনও দুপুরে ময়দান মার্কেটে পা রাখলে এমন বিদেশি গাদা গাদা মিলবে। নিম্নমানের এই বিদেশিদের যোগ্যতা কী? অতীতে চিমা, এডু, থিও, মাইক ওকোরোর মতো স্ট্রাইকার সাদা-কালো জার্সিতে ফুল ফুটিয়েছেন। যোগ্যতায় তাঁদের ধারেকাছেও আসবেন না ফ্রাঙ্কারা। আসলে কাককে ময়ূরপূচ্ছ দিলেই তা ময়ূর হয় না। শোনা যাচ্ছে, জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে বিদেশি বদল হতে পারে। ততদিনে অনেক ম্যাচ গড়িয়ে যাবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত পরিকল্পনা করা উচিত সাদা-কালো থিঙ্কট্যাঙ্কের। না হলে চলতি আইএসএলে চেরনিশভ ব্রিগেডের পারফরম্যান্স গ্রাফ আরও তলানিতে ঠেকবে।



