মুম্বই সিটি-২ : মোহন বাগান-২
Advertisement
(তোরাল, নাথান) (ম্যাকলারেন, দিমিত্রি)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম লেগেরই রিপিট টেলিকাস্ট। শনিবার মুম্বই এরিনায় ফিরল ১৩ সেপ্টেম্বরের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ঘরের মাঠে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট নষ্ট করেছিল মোহন বাগান। ফিরতি লেগেও চিত্রনাট্যে বিন্দুমাত্র বদল নেই। অর্থাত্, অভিশপ্ত ফুটবল এরিনায় জয়ের স্বাদ অধরা মেরিনার্সদের। প্রশংসা করতে হবে পিটার ক্র্যাটকি ব্রিগেডেরও। লিগ-শিল্ড চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচের শুরুতে ‘গার্ড অব অনার’ দিলেও মাঠে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি বিপিন-ছাংতেরা। ১০ জনে হয়ে পড়ার পরও দুরন্ত কামব্যাকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছেন। সেই সুবাদে সুপার সিক্সও প্রায় নিশ্চিত। ২২ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে মুম্বই। আর শীর্ষে থাকা মোহন বাগানের সংগ্রহ ২৩ ম্যাচে ৫৩।
বিপক্ষের সেটপিস মুভ আটকাতে না পারারই খেসারত দিতে হল মোলিনার দলকে। মুম্বইয়ের দু’টি গোল এসেছে যথাক্রমে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে। পাশাপাশি ফুটবলারদের আত্মতুষ্টির ব্যাপারটাও অস্বীকার করতে পারবেন না বাগান কোচ। প্রতিপক্ষ দশ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও কাঁপল সবুজ-মেরুন রক্ষণ। ম্যাচের শেষদিকে তো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ছিলেন বাগান সমর্থকরা! নক-আউটের আগে এই সমস্যা নিশ্চিতভাবে মেটাতে চাইবেন অভিজ্ঞ মোলিনা।
ঠাসা সূচির কারণে শনিবার মোহন বাগানের প্রথম একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। আলবার্তো, আশিস, আপুইয়া, স্টুয়ার্টদের বসিয়ে দীপ্যেন্দু, ভানুয়ালা, অভিষেকদের সুযোগ দেন কোচ। আর আক্রমণভাগে ম্যাকলারেনের সঙ্গী দিমিত্রি। চ্যাম্পিয়নদের গোল পেতেও বিলম্ব হয়নি। ৩২ মিনিটে মুম্বইয়ের ফন নিফের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ম্যাকলারেন। ডাচ মিডিওর সাজিয়ে দেওয়া ব্যাকপাস ধরে ডান পায়ের দুরন্ত প্লেসমেন্টে জাল কাঁপালেন জেমি (১-০)। তারপরই ভিআইপি বক্সে বসে থাকা মা-বাবার সামনে গিয়ে তাঁর সিগনেচার সেলিব্রেশন। ৪১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পেত্রাতোস। বাঁ দিক দিয়ে কাট করে ঢোকা লিস্টনের ক্রসে হাত ছোঁয়ালেও বিপন্মুক্ত করতে ব্যর্থ মুম্বই গোলরক্ষক লাচেনপা। ফিরতি বল জালে জড়ান দিমিত্রি (২-০)।
দু’গোলে পিছিয়ে পড়তেই টনক নড়ে মুম্বইয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মরিয়া আক্রমণ চালান ছাংতেরা। ফলও মেলে হাতেনাতে। ৫৭ মিনিটে কর্নার থেকে ব্রেন্ডনের পাস ধরে শট নেন ভালপুইয়া। তাতে আলড্রেডের হেড তোরালের গায়ে লেগে জালে জড়ায় (২-১)। কিন্তু পরের মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় মুম্বই। শুভাশিসকে ফাউল করে বিক্রমপ্রতাপ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। রেফারির এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। তবে মার্চিং অর্ডার পেয়ে বিক্রমপ্রতাপও চটজলদি মাঠ ছাড়েননি। বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো তিনি এদিকওদিক ঘুরতে থাকেন। এই পর্বে মোহন বাগানের জয় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগের মিনিটে সমতায় ফেরে মুম্বই। ফ্রি-কিক থেকে ওর্টিজের ভাসানো বল বক্সে মনবীর ক্লিয়ার করতে গেলে নাথানের মাথায় লেগে জালে জড়ায় (২-২)। উল্লেখ্য, প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে গ্যালারিতে ছিলেন মোহন বাগানের প্রাক্তন তারকা ব্যারেটো। লিড নিয়েও ম্যাকলারেনরা ড্র করায় হতাশ তিনি। এদিকে, চলতি মরশুমে মুম্বই ছেড়ে মোহন বাগানে নাম লেখানো আপুইয়ার উদ্দেশে আপত্তিজনক মন্তব্য করেন মুম্বইয়ের সমর্থকরা। গ্যালারি থেকে মিজো মিডিওকে লক্ষ্য করে নকল টাকার নোটও ছুড়তে দেখা যায়। এমন অসভ্য আচরণে বিরুদ্ধে আইএসএল কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেয় কিনা সেটাই দেখার।
মোহন বাগান: বিশাল, সৌরভ (আশিস), আলড্রেড, দীপ্যেন্দু, শুভাশিস (আশিক), টাংরি, অভিষেক (থাপা),মনবীর, লিস্টন, দিমিত্রি, ম্যাকলারেন (স্টুয়ার্ট)।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম লেগেরই রিপিট টেলিকাস্ট। শনিবার মুম্বই এরিনায় ফিরল ১৩ সেপ্টেম্বরের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ঘরের মাঠে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট নষ্ট করেছিল মোহন বাগান। ফিরতি লেগেও চিত্রনাট্যে বিন্দুমাত্র বদল নেই। অর্থাত্, অভিশপ্ত ফুটবল এরিনায় জয়ের স্বাদ অধরা মেরিনার্সদের। প্রশংসা করতে হবে পিটার ক্র্যাটকি ব্রিগেডেরও। লিগ-শিল্ড চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচের শুরুতে ‘গার্ড অব অনার’ দিলেও মাঠে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি বিপিন-ছাংতেরা। ১০ জনে হয়ে পড়ার পরও দুরন্ত কামব্যাকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছেন। সেই সুবাদে সুপার সিক্সও প্রায় নিশ্চিত। ২২ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে মুম্বই। আর শীর্ষে থাকা মোহন বাগানের সংগ্রহ ২৩ ম্যাচে ৫৩।
বিপক্ষের সেটপিস মুভ আটকাতে না পারারই খেসারত দিতে হল মোলিনার দলকে। মুম্বইয়ের দু’টি গোল এসেছে যথাক্রমে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে। পাশাপাশি ফুটবলারদের আত্মতুষ্টির ব্যাপারটাও অস্বীকার করতে পারবেন না বাগান কোচ। প্রতিপক্ষ দশ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও কাঁপল সবুজ-মেরুন রক্ষণ। ম্যাচের শেষদিকে তো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ছিলেন বাগান সমর্থকরা! নক-আউটের আগে এই সমস্যা নিশ্চিতভাবে মেটাতে চাইবেন অভিজ্ঞ মোলিনা।
ঠাসা সূচির কারণে শনিবার মোহন বাগানের প্রথম একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। আলবার্তো, আশিস, আপুইয়া, স্টুয়ার্টদের বসিয়ে দীপ্যেন্দু, ভানুয়ালা, অভিষেকদের সুযোগ দেন কোচ। আর আক্রমণভাগে ম্যাকলারেনের সঙ্গী দিমিত্রি। চ্যাম্পিয়নদের গোল পেতেও বিলম্ব হয়নি। ৩২ মিনিটে মুম্বইয়ের ফন নিফের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ম্যাকলারেন। ডাচ মিডিওর সাজিয়ে দেওয়া ব্যাকপাস ধরে ডান পায়ের দুরন্ত প্লেসমেন্টে জাল কাঁপালেন জেমি (১-০)। তারপরই ভিআইপি বক্সে বসে থাকা মা-বাবার সামনে গিয়ে তাঁর সিগনেচার সেলিব্রেশন। ৪১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পেত্রাতোস। বাঁ দিক দিয়ে কাট করে ঢোকা লিস্টনের ক্রসে হাত ছোঁয়ালেও বিপন্মুক্ত করতে ব্যর্থ মুম্বই গোলরক্ষক লাচেনপা। ফিরতি বল জালে জড়ান দিমিত্রি (২-০)।
দু’গোলে পিছিয়ে পড়তেই টনক নড়ে মুম্বইয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মরিয়া আক্রমণ চালান ছাংতেরা। ফলও মেলে হাতেনাতে। ৫৭ মিনিটে কর্নার থেকে ব্রেন্ডনের পাস ধরে শট নেন ভালপুইয়া। তাতে আলড্রেডের হেড তোরালের গায়ে লেগে জালে জড়ায় (২-১)। কিন্তু পরের মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় মুম্বই। শুভাশিসকে ফাউল করে বিক্রমপ্রতাপ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। রেফারির এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। তবে মার্চিং অর্ডার পেয়ে বিক্রমপ্রতাপও চটজলদি মাঠ ছাড়েননি। বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো তিনি এদিকওদিক ঘুরতে থাকেন। এই পর্বে মোহন বাগানের জয় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগের মিনিটে সমতায় ফেরে মুম্বই। ফ্রি-কিক থেকে ওর্টিজের ভাসানো বল বক্সে মনবীর ক্লিয়ার করতে গেলে নাথানের মাথায় লেগে জালে জড়ায় (২-২)। উল্লেখ্য, প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে গ্যালারিতে ছিলেন মোহন বাগানের প্রাক্তন তারকা ব্যারেটো। লিড নিয়েও ম্যাকলারেনরা ড্র করায় হতাশ তিনি। এদিকে, চলতি মরশুমে মুম্বই ছেড়ে মোহন বাগানে নাম লেখানো আপুইয়ার উদ্দেশে আপত্তিজনক মন্তব্য করেন মুম্বইয়ের সমর্থকরা। গ্যালারি থেকে মিজো মিডিওকে লক্ষ্য করে নকল টাকার নোটও ছুড়তে দেখা যায়। এমন অসভ্য আচরণে বিরুদ্ধে আইএসএল কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেয় কিনা সেটাই দেখার।
মোহন বাগান: বিশাল, সৌরভ (আশিস), আলড্রেড, দীপ্যেন্দু, শুভাশিস (আশিক), টাংরি, অভিষেক (থাপা),মনবীর, লিস্টন, দিমিত্রি, ম্যাকলারেন (স্টুয়ার্ট)।



