Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

দর্শন

দর্শন
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
১৯২১ সালে স্বামীজীর উৎসবের দিন সস্ত্রীক মহাত্মা গান্ধী পণ্ডিত মতিলাল নেহেরু, মহম্মদ আলি এবং আরও কতিপর সহকর্মীকে সঙ্গে করিয়া বেলুড় মঠ দর্শন করিতে আসেন। মহাপুরুষজী তাঁহাদিগকে সাদরে অভ্যর্থনা করিয়া ঠাকুর ও স্বামীজীর ঘর প্রভৃতি দর্শন করান। মহাত্মাজী ঠাকুরের ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং তাঁহার হাতের লেখা (যাহা বেলুড় মঠে সযত্নে রক্ষিত আছে) বিশেষ আগ্রহসহকারে দেখেন। ঠাকুরের ব্যবহৃত মাদুরখানি তিনি শ্রদ্ধাসহকারে স্পর্শ করিয়াছিলেন। বিপুল জনতার বিশেষ আগ্রহে তিনি স্বামীজীর ঘরের সংলগ্ন দ্বিতলের বারাণ্ডা হইতে নিম্নে গঙ্গাতীরে সমবেত জনগণকে হিন্দীভাষায় সময়োপযোগী একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণও দিয়াছিলেন। তাহাতে তিনি বলিয়াছিলেন, “আমি এখানে অসহযোগ-আন্দোলন বা চরখাপ্রচার করতে আসিনি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন-অনুষ্ঠানে তাঁহার পুণ্যস্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা ও নমস্কার জ্ঞাপন করবার জন্যই আজ এখানে এসেছি। আমি স্বামীজীর পুস্তকাবলী ভাল ক’রে পড়েছি—তার ফলে পূর্বে দেশের প্রতি আমার যে ভালবাসা ছিল, তা আরও অনেক বেড়েছে। যুবকদের কাছে আমার এই অনুরোধ—স্বামী বিবেকানন্দ যেখানে বাস করতেন এবং যেখানে দেহত্যাগ করেছেন, সেস্থানের ভাবধারা অন্ততঃ কিছুটা গ্রহণ না ক’রে শূন্যহাতে আজ ফিরে যেও না।”
Advertisement
অন্য সময়ে গান্ধীজীর সম্বন্ধে মহাপুরুষ মহারাজ বলিয়াছিলেন, “স্বামীজীর দেশপ্রীতিটা গান্ধীজীকে ভর করেছে। গান্ধীজীর চরিত্র সকলের অনুকরণীয়। দেশে দেশে ঐ রকম লোক জন্মালে তবে শান্তির একটা ব্যবস্থা হবে।”
ঐ বৎসর মাদ্রাজের ভক্তগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন একটা বাড়ির নির্মাণকার্য সমাপ্ত হইলে দক্ষিণ ভারতের সাধুভক্তগণের সমবেত আহ্বানে স্বামী ব্রহ্মানন্দ ঐ গৃহের দ্বারোদ্ঘাটন করিবার জন্য ১লা এপ্রিল মাদ্রাজ রওনা হইলেন। মহারাজের বিশেষ ইচ্ছায় মহাপুরুষজীও তাঁহার সঙ্গে গিয়াছিলেন। তাঁহারা পথে ভুবনেশ্বরে ষোল দিন এবং ওয়ালটেয়ারে এক সপ্তাহ কাটাইয়া ২৫শে এপ্রিল মাদ্রাজে পৌঁছিলেন। কে জানে—হয়তো কোন দৈব ইঙ্গিতেই স্বামী ব্রহ্মানন্দ তাঁহার ভাবী উত্তরাধিকারীকে দক্ষিণ ভারতের ভক্তমণ্ডলী ও বিভিন্ন কেন্দ্রের সহিত পরিচিত করিয়া দিবার জন্য এবং শ্রীশ্রীপ্রভুর মহিমা দিকে দিকে কতকটা ঘোষিত হইয়াছে তাহা আরও নিবিড়ভাবে হৃদয়ঙ্গম করাইবার জন্য তাঁহাকে এইবার সঙ্গে আনিয়াছিলেন। শিবানন্দ ইতঃপূর্বে শেষ মাদ্রাজে আসিয়াছিলেন ১৮৯৭ সালে—স্বামীজীকে অভ্যর্থনা করিয়া মঠে লইয়া যাইবার জন্য। এতদিনে যুগাবতারের ঐশী প্রভাব দক্ষিণ ভারতে আরও বিস্তার লাভ করিয়াছে। এখন ঘরে ঘরে শ্রীরামকৃষ্ণ ভগবানরূপে পূজিত হইতেছেন। 
স্বামী অপূর্বানন্দের ‘মহাপুরুষ শিবানন্দ’ থেকে
সম্পর্কিত সংবাদ