সংবাদদাতা, বালুরঘাট: মূল পাইপ লাইনে ফাটলের জেরে তিন দিন ধরে বালুরঘাট শহরে বিঘ্নিত পরিস্রুত পানীয় জলের পরিষেবা। সোমবারও একইভাবে জলের জন্য হাহাকার দেখা গেল শহরজুড়ে। এদিন ট্যাপ কলে ১৫ মিনিট জল এসেও বন্ধ হয়ে যায়। পুরসভা জানিয়েছে, পানীয় জলের পরিষেবার জন্য শহরে চারটি জোন রয়েছে। তিনটি জোনে ১৫ মিনিট জল এলেও একটি জোন পুরোপুরি পরিষেবা বন্ধ ছিল। ফলে বালুরঘাট শহরের সাহেব কাছারি থেকে দিপালী নগর, খিদিরপুর, হালদার সহ বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। অনেকেই জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এনিয়ে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
যদিও বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, পানীয় জলের পাইপ লাইনে লিক থাকাতেই এই সমস্যা হয়েছে। লাইন ঠিক করতে পুরসভা দ্রুত কাজ করছে। এদিন একটি জোনে জলের পরিষেবা বন্ধ ছিল। ওই এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেও কর্মীরা কাজ করেছেন। আরও কর্মীদের কাজে লাগানো হয়েছে। আশা করছি এদিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে। মঙ্গলবার থেকে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।
পুরসভা সূত্রে খবর, বালুরঘাট শহরে ২৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে আত্রেয়ী নদীর ওপারে ১৩, ১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই পানীয় জলের পরিষেবা এখনও পৌঁছয়নি। বাকি ২২টি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। সুষ্ঠু পরিষেবা দিতে শহরকে চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে সাহেব কাছারি জোনে পাইপ লাইনে বড় ফাটল থাকায় তার প্রভাব বাকি জোনে পড়েছে। পুরসভার কর্মীরা অবশ্য ফাটল মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ঝুমুর কুণ্ডু বলেন, তিন দিন ধরে বাড়িতে জল আসছে না। ফলে আমরা জল কিনে খাচ্ছি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা রিপন কুণ্ডু বলেন, এদিন বাড়িতে জল এসেছিল। কিন্তু তা মাত্র ১৫ মিনিট ছিল। বালুরঘাটে মণিমালা স্কুলের পাশে ফাটল ধরা পাইপ মেরামতের কাজ চলছে। -নিজস্ব চিত্র