সংবাদদাতা, বোলপুর: শ্মশান চত্বরে সংস্কারের বেশ কিছু কাজ হয়েছে। শবযাত্রীদের বসার জায়গা, শৌচালয়-সহ একাধিক পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু পানীয় জলের পরিষেবা বন্ধ থাকায় এখনও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মৃতদেহ নিয়ে আসা পরিবারগুলিকে। জলের ট্যাংক এবং হাত ধোয়ার জায়গাও তালাবন্ধ। ফলে একাধিক মৃতদেহের পরিবারকে এই সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
বোলপুর শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সতীঘাট শ্মশান। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল পরিকাঠামোর কারণে সমস্যায় পড়তেন শবযাত্রীরা। বৈদ্যুতিক চুল্লি তো ছিলই না, বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা বা ছাউনিও ছিল না। শ্মশানে ঢোকার রাস্তাও বেহাল ছিল। পর্যাপ্ত জল এবং সীমানা পাঁচিলের ব্যবস্থাও ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচটি দেহ এখানে দাহ করা হয়। পুরসভার আওতায় আসার পর শ্মশানটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কাজ হয়েছে। শবযাত্রীদের বসার জায়গা, শৌচালয়, ওয়াশরুম-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ হয়েছে। আরো কিছু কাজের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জলের পরিষেবা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ রয়েছে শবযাত্রীদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, মৃতদেহ দাহ করতে এসে জল না পাওয়া সমস্যার। বিশেষ করে হাত-পা ধোয়া বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা প্রসূন মণ্ডল ও সুমিত বাগদি বলেন, আগে শ্মশানের পরিকাঠামো ভালো ছিল না। এখন অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু জল পরিষেবা বন্ধ থাকায় এখনও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এই পরিষেবা চালু করা প্রয়োজন। সতীঘাট শ্মশানটি আগে সিয়ান-মুলুক গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় ছিল। পুরভোটের সময় শ্মশানসহ বেশ কিছু এলাকা বোলপুর পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপরই সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পুরসভা। তবে বর্তমানে জল পরিষেবা বন্ধ থাকার বিষয়ে বোলপুর পুরসভার প্রশাসকের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।