নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মোবাইল কানে রেললাইন পারাপার করতে গিয়ে বুধবার ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল দশম শ্রেণির পড়ুয়া কোয়েল রায়ের। দেহটি সোদপুর থেকে হিঁচড়ে নৈহাটি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল হাটেবাজারে এক্সপ্রেস। এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা দেখে শিউরে উঠেছিল স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। তবে এইটুকুই। এরপরও বিন্দুমাত্র সাবধান হয়নি কেউ। পরের দিন, বৃহস্পতিবারও দেখা গিয়েছে মোবাইল কানে রেললাইন পারাপার যেমন ছিল তেমনই চলছে। এক ফোঁটা সচেতন হয়নি মানুষ। কোয়েল একা নয় বুধবার সোদপুর স্টেশনে একই ট্রেনের ধাক্কায় আরও এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছিটকে পড়েছিল স্টেশন চত্বরে। মহিলার নাম পায়েল মিশ্র (২২)। তিনিও মোবাইল কানে লাইন পেরচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
Advertisement
বৃহস্পতিবার এই লাইনে কাতারে কাতারে মানুষকে রেললাইন টপকে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর কারও যে হুঁশ ফেরেনি তা এদিনও স্পষ্ট। রেলকর্মীদের ও পুলিসের বক্তব্য, ‘ফুট ওভারব্রিজ রয়েছে। কিন্তু তা দিয়ে হাঁটেন না যাত্রীরা। এলাকার বহু বাসিন্দা শর্টকাট করতে লাইন টপকান।’ আবার স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘রেল পুলিসের নজরদারি একেবারে নেই।’ কুণাল ঘোষ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। তা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার চলছে।’ বহু যাত্রীর বক্তব্য, ‘লম্বা ব্যারিকেড দিয়ে ওই অংশ ঘিরে দেওয়া উচিত। পুলিসের ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ছাড়া দুর্ঘটনা কোনওভাবেই বন্ধ সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে বুধবারের জোড়া দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে সোদপুর থেকে নৈহাটি।



