নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বরো চেয়ারম্যান তথা ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষকে নিকেশের ‘সুপারি’ নেওয়া বিহারের কুখ্যাত মাফিয়া পাপ্পু চৌধুরির দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ছড়াল। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সীমানায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই তথ্য লালবাজারের গোয়েন্দাদের কাছে কয়েকদিন আগেই এসে পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু এটা কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পনা করে তার বিরোধী গোষ্ঠী ট্রাক দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলেছে, তাই নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এমনকী পুলিসের হাত থেকে পালানোর সময় এই ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাও জানার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে বিহার পুলিসের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
সুশান্ত ঘোষের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে নেমে বিহারের মাফিয়া পাপ্পুর নাম পান তদন্তকারীরা। জানা যায়, বিহারের বৈশালী থেকে যে দুষ্কৃতীরা কলকাতায় এসেছিল, তারা সকলেই পাপ্পু গ্যাংয়ের। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া যুবরাজ জানিয়েছিল, পাপ্পুই তাদের পাঠিয়েছে। এরপর গুলশন কলোনির বাসিন্দা গুলজার ধরা পড়তেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, বিহারের গ্যাংস্টার পাপ্পু এখানে এসে থেকে গিয়েছে। পাপ্পুই পুরপ্রতিনিধি সুশান্তকে খুনের জন্য সুপারি নিয়েছে। টাকা তার কাছে অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছে। তার খোঁজে বিহারে একাধিকবার টিম যায়। বিহার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে তার একাধিক ডেরায় তল্লাশি চালিয়েও, তাকে পাওয়া যায়নি। বিহার পুলিসের খাতায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ এই অপরাধীর উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডেরা রয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, পাপ্পু বিহারের মুঙ্গের ও নেপাল থেকে ৯ এমএম পিস্তল নিয়ে আসছে। সুশান্তকে নিকেশ করতে ৯ এমএম সে এক শাগরেদ মারফত কলকাতায় পাঠিয়েছিল। সুশান্ত কাণ্ডের পর ধরপাকড় শুরু হওয়ায়, পাপ্পু বিহার ছেড়ে ভিন রাজ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। কোথাও সে ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকছিল না। দিন তিনেক আগে লালবাজারের কাছে খবর আসে, পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পাপ্পু চৌধুরির। গোয়েন্দারা জেনেছেন, গাড়ি করে সে উত্তরপ্রদেশে যাচ্ছিল। এই সময় ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির যা পরিচয় ও বর্ণনা তদন্তকারীরা পেয়েছেন, তার থেকে বুঝতে পারছেন এটি পাপ্পু চৌধুরি। যদিও এই সংক্রান্ত কোনও ছবি তাদের হাতে আসেনি।
এদিকে পাপ্পুর ডানহাত বলে পরিচিত আদিল কলকাতার ঠিকানা দেখিয়ে আধার কার্ড তৈরি করেছিল। সেই ঠিকানা থেকেই তার পাসপোর্ট রিনিউ হয়। তদন্তে উঠে আসে, পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য বিভিন্ন জাল নথি তৈরি হয়েছিল নিউ মার্কেট এলাকা থেকে। এখানকার একটি দালাল চক্র এই কাজ করেছে। তার ভিত্তিতে আদিলের বিরুদ্ধে জাল নথি দিয়ে পাসপোর্ট রিনিউ করার আলাদা কেস নিউ মার্কেট থানায় রুজু করেছে লালবাজার।



