নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আমেদাবাদে বিমান দুঘর্টনা সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ হবে শীঘ্রই। শুধু সরকার বা সংসদীয় কমিটির সদস্য নয়, সাধারণ মানুষের সামনেও তা তুলে ধরা হবে। সেই রিপোর্টটি অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হবে বলে বুধবার জানিয়েছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স ভারতেই পরীক্ষা হয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকরাই তা ‘ডিকোড’ করেছেন। সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষে অথবা আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই প্রাথমিক রিপোর্ট এসে যাবে। জেডিইউস সাংসদ সঞ্জয় ঝা’র সভাপতিত্বে বুধবার পরিবহণ, পর্যটন, সংস্কৃতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে চলা তদন্তের সূত্রেই উঠে এল বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ইঞ্জিন ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলির ভূমিকার বিষয়টি। এভিয়েশন জার্নাল ‘দ্য এয়ার কারেন্ট’-এর লেখায় এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা না হলেও ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের বিষয়টি বিমানচালকের ভুলকেই ইঙ্গিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উড়ানের পরেই সম্ভবত এআই-১৭১ বিমানের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিমান চালকদের বিকল হয়ে যাওয়া ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ করার
সুইচটি বন্ধ করার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্ভবত কোনও একজন পাইলট দুর্ঘটনাবশত চালু থাকা ইঞ্জিনের ফুয়েল সাপ্লাই সুইচটি বন্ধ করে ফেলেছিলেন। যদিও বিমান চালকের ভুলেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল কি না, সেই বিষয়ে কিছু জানায়নি ‘দ্য এয়ার কারেন্ট’।
অন্যদিকে, আমেদাবাদ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিমান সংক্রান্ত কোনও ক্ষতির সম্মুখীন হলে যাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এয়ার ইন্ডিয়া ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গড়ছে বলেই এদিন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানিয়েছেন এয়ার ইন্ডিয়ার শীর্ষকর্তা উইলসন ক্যাম্বেল। বৈঠকে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর পাশাপাশি ডিজিসিএ সহ দেশের সব বিমান সংস্থাকে ডাকা হয়েছিল। বিমান তথা যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন রিপোর্টে বারবার সতর্ক করার পরেও কেন সরকার বা বিমান সংস্থাগুলি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জুন মালিয়া, রাজীব প্রতাপ রুডি, কুমারী সেলজার মতো সাংসদরা।