চারদিকে সবুজের সমারোহ। ফ্লোরিডার গার্ডেনস নর্থ কাউন্টি ডিস্ট্রিকটস পার্কের যে দিকেই তাকান না কেন, চোখ আরাম পাবে। শান্ত, মনোরম পরিবেশ। সারি সারি ক্যাবেজ পাম, সাদার্ন ম্যাগনেলিয়া দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। দূর থেকে দেখলে ক্যাবেজ পামকে আপনার খেজুর গাছ বলে মনে হতে পারে। প্রায় একই অবয়ব। ছবির মতো এই পার্কেই আস্তানা গেড়েছে পর্তুগাল ফুটবল টিম। ভারতীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় আমেরিকায় পা রাখেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা। তারপর থেকেই শিবিরের কাছে কৌতূহলী ভিড়। বিমানবন্দরেই সিআরসেভেনকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন অনুরাগীরা। ব্ল্যাক টি-শার্ট, নীল ট্রাভেল স্যুট-প্যান্ট পরিহিত রোনাল্ডো নেমে এলেন বিমান থেকে। চোখে সাদা ফ্রেমের ডিজাইনার সানগ্লাস। কাচের রং নীল। হাতে ধরা ডাফেল ব্যাগের মাঝে ঠিক যেন পর্তুগালের সবুজ-মেরুন ছোঁয়া।
বয়স ৪১। সাফল্যের খিদে একইরকম। কিন্তু ফিটনেস ও রিফ্লেক্সে ঘাটতি চোখ এড়ায় না ফুটবল বিশেষজ্ঞদের। মুখে অন্য কথা বললেও রোনাল্ডোও জানেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তাই অধরা মাধুরী লাভের জন্য নিজেকে নিংড়ে দিতে তৈরি পর্তুগিজ মহাতারকা। আপাতত তাঁর লক্ষ্য, গ্রুপের গণ্ডি অতিক্রম করা। তারপর সমালোচকদের জবাব দেওয়ার জন্য নক-আউট পর্বকেই বেছে নেবেন।
সিআরসেভেনের হৃদয়ের অনেকটা জুড়ে ছিল আমেরিকা। এই দেশ জানে তাঁর প্রথম সবকিছু। ২০১১’র ভ্যালেন্টাইন ডে নিশ্চয়ই ভোলা সম্ভব নয়। নিউ ইয়র্কে উড়ে এসে রুশ মডেল ইরিনা শায়েককে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। এখন সেসব নিছকই অতীত। কিন্তু প্রাক্তন প্রেমিকাকে কি ভুলতে পেরেছেন ওয়ার্ল্ড ফুটবলের হি-ম্যান? হয়তো সেই স্মৃতিই তাঁকে এই মহাদেশে ভালো খেলার বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এদিন রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে ফুটবলারদের ঝালিয়ে নিলেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও কঙ্গোকে নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি তাঁর। এবার শুধু ফুটবলাররা মাঠে নেমে তা রূপায়িত করবেন।
বিশ্বকাপের আগে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রোনাল্ডো। স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু তিনি অবিচল। ফুটবল জীবনে প্রচুর উত্থান-পতন দেখেছেন তিনি। সামলেছেন বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের কড়া ট্যাকল। জানেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসিকে স্পর্শ করার জন্য মার্কিন মুলুকে তাঁকে বিশ্বসেরা হতেই হবে।
পর্তুগালের অনুশীলন শেষ। মাঠ ছাড়ার সময় ফ্লোরিডার মতো বড়ো শান্ত রোনাল্ডো। তাহলে কি তাঁর পারফরম্যান্সে ঝড় ওঠার পূর্বাভাস? নাকি, বাকি পাঁচটি বিশ্বকাপের মতো এবারও চোখের জলই সঙ্গী হবে তাঁর। গলার শিরা ফুলিয়ে বলতে পারবেন কি তিনি ‘আয়াম দ্য বেস্ট’? না হলে নিন্দুকরাই চিৎকার করবে, বেস্টকেও রেস্ট নিতে হয়।