ওয়ালথাম: একজন তাঁর আইডল। অন্যজন ছিলেন দীর্ঘদিনের সতীর্থ। তাই আসন্ন বিশ্বকাপে দুই পছন্দের প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রসঙ্গ উঠতেই নির্দ্বিধায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও নেইমারের নাম নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। একইসঙ্গে কাপ যুদ্ধের মহারণে এই দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলতে মুখিয়ে ফরাসি তারকা। এক সাক্ষাৎকারে এমবাপে বলেন, ‘বিশ্বকাপের আসরে রোনাল্ডো কিংবা নেইমারের বিরুদ্ধে খেলাটা আমার স্বপ্ন। হতে পারে এটাই দু’জনের শেষ বিশ্বকাপ। আর হয়তো সেই সুযোগ থাকবে না। অবশ্যই দু’জনের সঙ্গেই আমার দারুণ সম্পর্ক। মাঠের লড়াইটা ততটাই উপভোগ্য হবে।’
রোনাল্ডোর প্রতি এমবাপের ভালোবাসা কারও অজানা নয়। এমনকি, ছোটবেলায় পর্তুগিজ মহাতারকার পোস্টারও ছিল তাঁর ঘরে। আর তা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আরও গাঢ় হয় ফরাসি তারকার। শুধু তাই নয়, দু’বছর আগে পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার আগেও রোনাল্ডোর পরামর্শ নিয়েছিলেন এমবাপে। আর স্প্যানিশ ক্লাবটির জার্সি গায়ে চাপিয়েই জানিয়েছিলেন, রিয়ালে রোনাল্ডোর যোগ্য উত্তরসূরি হতে চান। তবে তাঁদের একসঙ্গে খেলার স্বপ্ন অধরাই রয়েছে।
নেইমারের ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্রটা ভিন্ন। পিএসজিতে দীর্ঘ ছ’বছর একসঙ্গে খেলেছেন তাঁরা। প্রথম কয়েক বছর ব্রাজিলিয়ান তারকার সঙ্গে এমবাপের বন্ধুত্ব ছিল বেশ গভীর। তবে শেষের দিকে দূরত্ব বাড়ে। শোনা গিয়েছিল, নেইমারকে ছেঁটে ফেরার জন্য নাকি ক্লাব কর্তাদের উপর চাপও বাড়ান এমবাপে। যদিও এই নিয়ে কখনও তাঁদের মধ্যে কোনোরকম সমস্যা দেখা মেলেনি। বর্তমানে এমবাপে কেরিয়ারের মধ্য গগনে। আর নেইমার অস্তাচলে। চোটে জর্জরিত ব্রাজিলিয়ান তারকার একটা সময় বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়া নিয়েই দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেলেও নেইমার এখনও চোটের কবলে। এমবাপে অবশ্য দুই মহাতারকার বিরুদ্ধে খেলার জন্য মুখিয়ে। উল্লেখ্য, শেষ দু’টি বিশ্বকাপের আসরে মেসি-এমবাপে দ্বৈরথের সাক্ষী থেকেছেন অনুরাগীরা। ২০১৮ সালে আর্জেন্তিনাকে দুরমুশ করে দেশঁ ব্রিগেড। তবে চার বছর পর ফ্রান্সকে হারিয়ে কাপ জেতে মারাদোনার দেশ। এমনকি, আসন্ন কাপ যুদ্ধের মহারণেও ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন তাঁরা। তবে মেসির থেকেও রোনাল্ডো ও নেইমারের বিরুদ্ধে খেলার জন্য বেশি উদগ্রীব এমবাপে।
বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে আইভেরি কোস্টের মুখোমুখি হয় দেশঁ ব্রিগেড। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরুটা ভালো হয়নি দু’বারের চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচে ১-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়েন এমবাপেরা। যদিও মার্কিন মুলুকে এই হারের কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই আশাবাদী ফ্রান্স শিবির। শুক্রবার আমেরিকায় পা রাখেন এমবাপেরা। আপাতত ওয়ালথামের বেন্টলে ইউনিভার্সিটির মাঠেই প্রস্তুতি সারবে ফ্রান্স। সোমবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন এমবাপেরা।