নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর এবং সিএএ নিয়ে জেরবার বঙ্গ বিজেপি। গোদের উপর বিষ ফোঁড়া বকেয়া রাজ্য কমিটি। মাস পাঁচেক হল শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপি সভাপতির দায়িত্বে এসেছেন। আর আগামী মাস ছয়েকের মধ্যে বিধানসভা ভোট। অথচ এখনও নতুন রাজ্য কমিটি কিংবা পদাধিকারী ঘোষণা করতে পারেনি পদ্ম শিবির। পার্টির নীচুতলা এখনও সাংগঠনিকভাবে নড়বড়ে। মাত্র ৬৫ শতাংশ বুথ কমিটি তৈরির প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ২০২১ সালের ২০০ আসনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছে বিজেপি। তাই এবার ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ১৫৩টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে গেরুয়া নেতারা। ২১০ থেকে ২২০টি আসনের মধ্যে থেকেই এই জয় ছিনিয়ে আনতে হবে বিজেপিকে। বাকি ৭৪টি আসনে লড়াই হবে লোক দেখানো। কারণ, সেগুলি সংখ্যালঘুপ্রধান। ওইগুলি কার্যত ওয়াকওভার দেবে বিজেপি। কারণ, বুথ কিংবা মণ্ডল স্তরে পার্টি কোনও কর্মকাণ্ডই নেয় না।
এহেন দুর্বল সংগঠনকে সামনে রেখে বিধানসভা ভোটে যাচ্ছে বিজেপি। হিসেব মতো ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে। বিশেষ সূত্রের খবর, গত তিনটি বিধানসভা ভোটের তুলনায় এবার অপেক্ষাকৃত কম দফায় নির্বাচন আয়োজিত হবে। দুই কিংবা তিন দফায় ভোট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই অবস্থায় বিজেপি আদৌ কতটা তৈরি তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে। রাজ্য বিজেপির প্রবীন নেতাদের মতে, কার্যত ৭৪ থেকে ৮০টি আসন তৃণমূলের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে লড়াই সম্ভব নয়। দুর্বল রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি নিয়ে ক্ষমতা দখলের খোয়াব দেখানোর তীব্র সমালোচনা শোনা গিয়েছে আদি নেতাদের মুখে। তাঁদের অভিমত, যেভাবে রাজ্য বিজেপি চলছে, তাতে মনে হচ্ছে ভোটের বাকি এখনও বছরখানেক। দলের এখন যা হাল তাতে ভোটের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামা অসম্ভব। রাজ্য সভাপতি এখনও জানেন না, তাঁর সহযোদ্ধা কারা হবেন! অর্থাৎ রাজ্য কমিটিতে সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ কারা পাবেন। চলতি মাসেই নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তারপর হাতে থাকবে মাত্র তিনমাস। এইসময়ে গোটা গ্ৰামবাংলা ঘুরে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী করা অত্যন্ত কঠিন। তাই দিল্লির নেতারা যাই বলুন না কেন, এরাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসা বাস্তবিকই ভীষণ কঠিন ব্যাপার। সাফ উপলব্ধি প্রবীণ গেরুয়া নেতাদের।