Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্বল নদীবাঁধ, ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত উদয়নারায়ণপুরের কৃষিজমি

দুর্বল নদীবাঁধ, ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত উদয়নারায়ণপুরের কৃষিজমি
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা. উলুবেড়িয়া: বর্ষার সময় ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত হয়েছিল হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর। আর এবার বোরো  চাষের জন্য ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত হল উদয়নারায়ণপুরের পাঁচারুল ও দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকশো বিঘা চাষের জমি। প্রতি বছর এই সময় বোরো চাষের জন্য জল ছাড়া হয়। ডিভিসির মাইথন, পাঞ্চেৎ বাঁধ থেকে ছাড়া জল বর্ধমান, হুগলি হয়ে হাওড়ায় আসে। সেই জল বিভিন্ন খাল দিয়ে জমিতে প্রবেশ করানোর জন্য মুণ্ডেশ্বরী নদীর চিংড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ দেওয়া হয়। এইসব জায়গায় এমনিতে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জল জমেছিল। তার উপরে ডিভিসি জল ছাড়ে। পুরনো বাঁধগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকঠাক না হওয়ার কারণে সেই জলের বেগ বাঁধ ধরে রাখতে পারেনি। ফলে, বাঁধ ভেঙেই বিপত্তি ঘটে। 
Advertisement
রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা বাঁধের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নিয়ে রবিবার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিফ ইঞ্জিনিয়ার সহ পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গেছেন। প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠানো হয়েছে। জল বের করার উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তর। বর্ষার সময় ওই জায়গার বাঁধে কিছু ফাটল হয়েছিল। সেই সময় দ্রুত মেরামত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এখন বৃষ্টি হওয়ার পর ও ডিভিসির জল আসার জেরে হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়ণপুর ও হুগলির খানাকুলের  কিছু  এলাকায় খানিকটা সমস্যা হয়েছে। ওই জায়গায় বাঁধের পাকাপাকি মেরামতি করা হবে। তবে বোরো ধান চাষে সেচের জলের প্র঩য়োজন থাকায় এখান থেকে জল পুরোপুরি বের করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। সবদিক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেচদপ্তর ব্যবস্থা নিচ্ছে। 
স্থানীয় সূত্রে খবর, ডিভিসি-র জল হুগলির বলাইচকের চিংড়া খালের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উদয়নারায়ণপুরের পাঁচারুল গ্রাম পঞ্চায়েতের সুবলচক ও দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর মানশ্রী ও আমবাগান এলাকায় ঢুকে পড়ে। প্রায় হাজার বিঘা চাষের জমি প্লাবিত হয়ে যায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ডিভিসির ছাড়া জলে দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭০০ বিঘা আলু চাষ ও ১৫০ বিঘা বোরো ধান চাষের ক্ষতি হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, মাঠে জল ঢুকে আলু ডুবে গেছে। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, জল বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। 
উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণ গায়েন জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় হুগলির বলাইচক গ্রামের আশমগোড়ার কাছে ২৫০ মিটারের মতো নদী বাঁধ ভেঙেছিল। আমরা একাধিকবার সেচদপ্তরকে বাঁধ মেরামতের কথা বললেও কাজের উন্নতি না হওয়ায় আজকে এই বিপত্তি। আপাতত জেলাও ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং বিধায়ক সমীর পাঁজার সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের উদ্ধার হওয়া আলু সরকারি সহায়ক মূল্যে সুফল বাংলার মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি প্রতি নেওয়া হবে।
একইভাবে খানাকুলের বলাইচকে অকাল বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খানাকুলের চিংড়া পঞ্চায়েত এলাকাটি কার্যত দ্বীপের মতো। বলাইচক গ্রামের পাশ দিয়ে মুণ্ডেশ্বরী নদীর শাখা খাল গিয়েছে। ডিভিসির জলের বেগ ধরে রাখতে না পেরে শনিবার মাঝরাতে আচমকা ওই শাখা খালের অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে যায়। হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে কৃষিজমিতে। রাতে স্থানীয় বাসিন্দারাই বস্তা দিয়ে ফাটল আটকানোর চেষ্টা করেন। তাতে লাভ হয়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকশো বিঘা জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্য বলেন, প্রশাসন বাসিন্দাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতির মুখ থেকে চাষিদের বাঁচাতে স্পটেই আলু কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ