Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তোলাবাজি-গুন্ডা দমনে জোড়া বিল, সম্পত্তি ধ্বংস করলে তিনগুণ আদায় করব: শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন আইন পাশ, গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংসে তিনগুণ জরিমানা। বিস্তারিত জানুন।

তোলাবাজি-গুন্ডা দমনে জোড়া বিল, সম্পত্তি ধ্বংস করলে তিনগুণ আদায় করব: শুভেন্দু
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘গুন্ডা মুক্ত বাংলা’—বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার পাশ করাল তোলাবাজি-গুন্ডা দমনে জোড়া বিল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। গুন্ডাদের এক ইঞ্চিও রেয়াত করা হবে না। আর যারা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করবে, তাদের থেকে তিনগুণ আদায় করব।’

Advertisement

সোমবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার পাশ করেছে ‘দ্য ওয়েস্টবেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইন্টেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। দু’টি বিলেরই মূল উদ্দেশ্য, গুন্ডা ও সমাজবিরোধীদের শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে বিপুল পরিমাণ জরিমানা আদায় করা। দু’টি বিলের সূত্র ধরে বিজেপি সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, এখন আর গুন্ডাবাহিনীর এতটুকু বাড়বাড়ন্ত বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ টেবিলের তলায় লুকিয়ে নয়, মাথা তুলে কাজ করবে। তাই বিলের উপর আলোচনা শেষে দেখা গেল, শুভেন্দু অধিকারীর স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আনা এই বিল পাশ হল ১৭৬-৪১ ভোটে। 
আলোচনার শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূল জমানায় ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি সহ একাধিক জায়গায় গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। তার প্রেক্ষিতেই এই বিল আনা। ঘটনাচক্রে যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এদিন হাজির ছিলেন বিধানসভার গ্যালারিতে। এরপরই বিলের উপর আলোচনায় অংশ নেন সরকার পক্ষের মন্ত্রী অরূপ কুমার দাস, শংকর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল। বিরোধী পক্ষের হয়ে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল বিধায়ক গোলাম রব্বানি, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। সর্বশেষে বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে ক্রিমিনালদের আমদানি সিপিএমের হাত দিয়ে শুরু হয়। তারপর তৃণমূল জমানায় ভোট ব্যাংক রাজনীতির কারণে গুন্ডাদের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আইনে অনেক ফাঁক ছিল। কিন্তু এখন গুন্ডাদের সময় শেষ।’ 
বিলের উপর আলোচনাকালে গোষ্ঠী সংঘর্ষ, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়া, ট্রেনে পাথর ছোড়া, পুলিশের উপর আক্রমণ, বোমা বিস্ফোরণ সহ বিভিন্ন ঘটনার কথা টেনে আনেন সরকার পক্ষের মন্ত্রীরা। এমনকি তাঁরা এও অভিযোগ করেন, সমাজের একটি সম্প্রদায়কে ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিত তৃণমূল। ঠিক এখানেই শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, ‘আগে যা হয়েছে তা অতীত। আমি এখন পুলিশমন্ত্রী। গুন্ডাদের ভিটেমাটি ছাড়া করব।’
তবে বিরোধীদের মধ্যে আশঙ্কা, এই বিলের সূত্র ধরে রাজনৈতিক নেতাদের উপর চাপ আসতে পারে। এক বছর পর্যন্ত সতর্কতামূলক গ্রেপ্তারি হতে পারে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় ও সিপিএমের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানকে ‘ভদ্রলোক’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইনের অপপ্রয়োগ করব না। একে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হবে না।’
তবে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘সময় এসেছে ওঁকে সবক শেখানোর। দু’টি থানায় ওঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ধরে রাখুন, যে উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য উনি করেছেন, সেটাই ওঁর শেষ বক্তব্য ছিল।’ পাশাপাশি, দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘কেউ কালী, পেন, দোয়াতের কথা বলছে। ফিরহাদ হাকিম যদি পেন হন, তাহলে দোয়াত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে যদি পেন যায়, তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। কিন্তু সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। জোগাড় করছি। প্রমাণ থাকলে কাউকে ছাড়া হবে না।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ