Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে খেলবেন না, হুঁশিয়ারি মমতার

চা শ্রমিকদের এবার ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার জন্য অ্যাডভাইসরি জারি করেছে রাজ্য সরকার। এনিয়ে কেউ কেউ খেলার চেষ্টা করছে বলে বুধবার জলপাইগুড়ির সভা থেকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে খেলবেন না, হুঁশিয়ারি মমতার
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চা শ্রমিকদের এবার ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার জন্য অ্যাডভাইসরি জারি করেছে রাজ্য সরকার। এনিয়ে কেউ কেউ খেলার চেষ্টা করছে বলে বুধবার জলপাইগুড়ির সভা থেকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, চা শ্রমিকদের টাকা নিয়ে খেলবেন না। এসব বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে ২৮৫টি চা বাগান রয়েছে। ২ লক্ষ ৯০ হাজার শ্রমিক। এবছরই ২০টি বন্ধ চা বাগান খুলেছি আমরা। এর আগে খোলা হয়েছে ৫৯টি চা বাগান। রাজ্য সরকার কথা বলে এবার চা শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস ঠিক করেছে। শ্রমিকরা ওই হারে বোনাস পাবেন। মুখ্যসচিব সবটা দেখে নেবেন। 

Advertisement

চা শ্রমিকদের উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে রাজ্য। চা সুন্দরী প্রকল্পের ঘর থেকে চা শ্রমিকদের জমির পাট্টা, বিনামূল্যে রেশন থেকে জয় জোহার প্রকল্প, চা শ্রমিকরা যাতে তাঁদের ছেলেমেয়েদের সুরক্ষিত রেখে কাজে যেতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি বাগানে তৈরি করা হচ্ছে ক্রেশ। হচ্ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চা বাগানে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য বাস নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। ঢালাও উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি এবার ২০ শতাংশ বোনাস নিয়ে রাজ্য অ্যাডভাইসরি জারি করায় উচ্ছ্বসিত চা শ্রমিকরা। কারণ গত বেশ কয়েকবছর ধরে ২০ শতাংশ বোনাস পাচ্ছিলেন না চা শ্রমিকরা। গতবারও ১৬ শতাংশ বোনাস হয় ডুয়ার্সের চা বাগানে। 
একের পর এক বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর বোনাস নিয়ে রফা, এটাই চা বাগানের চেনা ছবি। তাও আবার নির্ধারিত বোনাস একবারে হাতে পান না বহু বাগানের শ্রমিক। এমন সময় বোনাস নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়, তখন পুজো এসে যায়। সেক্ষেত্রে কেনাকাটার সময় থাকে না। এবার ছবিটা একেবারে আলাদা। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ মিলে একটিও বৈঠক করে সময় নষ্ট হোক, এটা চায়নি রাজ্য। সেকারণে রাজ্যের তরফে সরাসরি চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ব্যাপারে অ্যাডভাইসরি জারি করা হয়েছে। আর এতেই বিপাকে পড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কারণ, রাজ্যের মাস্টার স্ট্রোকে মুখ পুড়েছে তাদের। চা বাগানে তারা আর কোনও ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ