প্রথমবার ডোভার লেনে কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করবেন পণ্ডিত হরিশ তেওয়ারি। অনুষ্ঠানের আগে একান্ত আলাপচারিতায় শিল্পী।
প্রথমবার ডোভার লেনে কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করবেন পণ্ডিত হরিশ তেওয়ারি। অনুষ্ঠানের আগে একান্ত আলাপচারিতায় শিল্পী।
ডোভার লেনে প্রথম অনুষ্ঠান। কেমন লাগছে ? হরিশ বলেন, ‘বহুবার এই সংগীত সম্মেলনের কথা শুনেছি। এখানে সুযোগ পেয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’ কলকাতা প্রসঙ্গে শিল্পীর জবাব, ‘আমার গুরুজি পণ্ডিত ভীমসেন জোশি সবসময় কলকাতার শ্রোতাদের খুব কদর করতেন। বলতেন, এই শহরে মানুষ গানবাজনার কদর করেন।’
গানের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হল কীভাবে? স্মৃতির পাতা ঘেঁটে হরিশ জানান, ‘আমার বাড়ি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের দেওয়ারিয়ায়। বাড়িতে গানবাজনার আবহ তেমন ছিল না বললেই চলে। কাকা খুব উৎসাহ দিতেন। পুরনো হিন্দি সিনেমার গান শুনতাম... মহম্মদ রফি, মুকেশ, লতা মঙ্গেশকর। সুযোগ পেলে লোকসংগীতের চর্চা করতাম। এভাবেই গানের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করি। ঠাকুর চৌবের কাছে তালিম নিতাম। এরপর গোরক্ষপুর থেকে বারাণসী চলে আসি। সেখানে পণ্ডিত অজিত ভট্টাচার্য সহ বহু গুণী শিল্পীর থেকে শিক্ষাগ্ৰহণ করি।’
পণ্ডিত ভীমসেন জোশির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা কিছু মনে পড়ে? শিল্পীর কথায়, ‘বারাণসীতে থাকাকালীন পণ্ডিত যশরাজের গান শুনেছিলাম। তারপর থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়। এমন সময় একদিন পণ্ডিত অজিত ভট্টাচার্যের কথায় পণ্ডিত ভীমসেন জোশির একটা রেকর্ডিং শুনলাম। রাগ মিয়া মল্লার। বন্দিশ আর গায়কী শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ঠিক করলাম, ওঁর কাছেই তালিম নেব। চলে গেলাম পুনে। সেখানেই গুরুজির সঙ্গে প্রথমবার দেখা হয়।’ এখানেই না থেমে হরিশ বলেন, ‘গুরুজি তখন বাইরে যাচ্ছিলেন। আমাকে মে মাসে আসতে বললেন। তাই করলাম। আমার গলা শুনে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি পেশাদার শিল্পী হতে চাও? তাহলে এক লক্ষের মধ্যে একজন হতে হবে। শুরু হল তালিম। দীর্ঘ পাঁচ বছর পুনেতে ছিলাম। মুগ্ধ হয়ে গুরুজির গান শুনতাম ক্লাসে। উনি কখনও শিল্পীদের সমালোচনা করতেন না।’
তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে শিল্পীর বার্তা, ‘নিজের প্রতি বিশ্বাস হারালে চলবে না। নির্ভীক হতে হবে। গুরুর কাছে শিক্ষার পাশাপাশি মন দিয়ে রেওয়াজ করতে হবে।’
সায়নদীপ ঘোষ