Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক দশক আগে তৈরি ডোমকলের ২টি কৃষকবাজারই বেহাল, ক্ষোভ

কোথাও মস্ত লোহার গেটের উপর রয়েছে পুরনো সাইনবোর্ড। কোথাও আবার মরচে ধরা ধর্মকাঁটার পাশে সাইনবোর্ডের একাংশ পড়ে আছে।

এক দশক আগে তৈরি ডোমকলের ২টি কৃষকবাজারই বেহাল, ক্ষোভ
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: কোথাও মস্ত লোহার গেটের উপর রয়েছে পুরনো সাইনবোর্ড। কোথাও আবার মরচে ধরা ধর্মকাঁটার পাশে সাইনবোর্ডের একাংশ পড়ে আছে। রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলছে। ডোমকল মহকুমায় তৈরি দু’টি কৃষকবাজারের এমনই বেহাল দশা। এনিয়ে চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মহকুমা শাসক শুভঙ্কর বালা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement


প্রায় একদশক আগে ইসলামপুরের গোয়াস ও জলঙ্গির জোটতলায় এই দু’টি কৃষকবাজার তৈরি করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, চাষিদের উৎপাদিত শাকসব্জি ও কৃষিপণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়া নিশ্চিত হয়। এজন্য প্রতিটি কৃষকবাজারে একাধিক ভবন তৈরির পাশাপাশি ফসল বিক্রির জায়গা, গুদাম ও অত্যাধুনিক ধর্মকাঁটা বসানো হয়েছিল। এই দু’টি কৃষকবাজার ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন মহকুমার চাষিরা। কৃষিপ্রধান ডোমকল মহকুমায় বছরভর প্রচুর ধান, গম ও সব্জি উৎপাদিত হয়। চাষিদের আশা ছিল, এই কৃষকবাজারে সহজেই ফসল বিক্রি করে তাঁরা লাভবান হবেন। ফড়েদের দৌরাত্ম্য কমবে। কিন্তু বাজার চালুর প্রায় একদশক পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। বেশিরভাগ ভবন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। 


স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখন কৃষকবাজার দু’টি মূলত ধান কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কিন্তু কেন এমন পরিণতি? কৃষকদের দাবি, দুই জায়গাতেই সমস্যার ধরন আলাদা হলেও মূল কারণ সঠিক পরিকল্পনার অভাব। গোয়াসের কৃষকবাজারটির ভৌগোলিক অবস্থানই তার ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। সেখানে পৌঁছতে বেশি সময় নষ্ট হবে। গাড়িভাড়াও বেশি লাগবে। মূল বাজার এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা একেবারেই নেই। ফলে সেখানে গিয়ে চাষিরা লাভের মুখ দেখেন না। স্থানীয় চাষি আফতাব মোল্লা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় কৃষকরা সেখানে যেতে চাননি। তাই বাজার জমেনি।


জলঙ্গির জোটতলার কৃষকবাজার নিয়ে আবার অন্য অভিযোগ। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই বাজারের ভৌগোলিক অবস্থান খারাপ নয়। কিন্তু কৃষকবাজার তৈরির সময় থেকেই স্থানীয় দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি এবং অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের কারণে ওই জায়গা নিয়ে চাষিদের আগ্রহ কমে যায়। স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, কৃষকবাজার তৈরির সময় চাষিদের আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব ও অতিরিক্ত তোলা আদায়ের জেরে যে চাষিরা দোকান নিয়েছিলেন, তাঁরাও পালিয়ে যান। এখন সাধারণ মানুষও সেখানে ঢোকে না।  বেহাল কৃষকবাজার। বুধবার তোলা নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ