নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে দিয়ে গ্রাহকের জমানো প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডোমজুড় থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সুমিত কুণ্ডু। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হতেই তার একের পর এক ঠকবাজির কীর্তি সামনে আসতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমজুড়ের কাটলিয়া এলাকার বাসিন্দা অভিজিৎ পাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিজিৎ কর্মসূত্রে কাতারে থাকতেন। ২০১৯ সালে সুমিত তাঁকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। সেখানে টাকা জমা রাখলে অতিরিক্ত নানা সুবিধা পাওয়া যাবে বলেও অভিজিৎকে টোপ দিয়েছিল সুমিত। বিদেশে কর্মরত অবস্থায় পরিবারের খরচের জন্য নিয়মিত ওই অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেন তিনি। অভিযোগ, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিজিতের সই ও বিভিন্ন নথি নকল করে দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেয় অভিযুক্ত।
অভিজিৎ বলেন, প্রায় এক বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফিরে অ্যাকাউন্টের হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি দেখেন, কয়েক লক্ষ নয়, জমানো প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকাই উধাও। অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে মাত্র কয়েক হাজার টাকা। এরপরই তিনি ডোমজুড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বুধবার রাতে সুমিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক জানান, অভিযুক্তকে পুলিশি হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রতারণার টাকার হদিশের পাশাপাশি এই চক্রে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কাটলিয়া এলাকায় সুমিতের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সময়ে নতুন সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া এবং বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে সে। এমনকি, নিজের জামাইবাবুকেও ঠকিয়েছে সুমিত।