Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একের পর এক ডলফিনের দেহ উদ্ধার, সক্রিয় তেল নিষ্কাশন চক্র

কাটোয়ায় সচেতনতার প্রচার সত্ত্বেও জাতীয় জলজ প্রাণী গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। ভাগীরথী থেকে একের পর এক গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে।

একের পর এক ডলফিনের দেহ উদ্ধার, সক্রিয় তেল নিষ্কাশন চক্র
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় সচেতনতার প্রচার সত্ত্বেও জাতীয় জলজ প্রাণী গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। ভাগীরথী থেকে একের পর এক গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও কাটোয়ার বাবলাডাঙা গ্রামের ভাগীরথী লাগোয়া গাছ থেকে উদ্ধার হল ডলফিন শাবকের মৃতদেহ। রীতিমতো ওই শিশু ডলফিনের মুখ কেটে টিনের মধ্যে ঢুকিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। বনদপ্তরের দাবি, তেল সংগ্রহ করার জন্যই কারবারিরা এমনটা ঘটিয়েছে। ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে। গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাটোয়াতেই ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে, এটা উদ্বেগের। যা ভাবিয়ে তুলেছে পরিবেশ কর্মীদের। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৯ সালে গাঙ্গেয় ডলফিনকে জাতীয় জলজ প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রাণীটি গঙ্গা নদীর পবিত্রতা ও বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। পরিবেশ কর্মীদের দাবি, এই প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটলে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হবে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, বনদপ্তর তদন্ত করতে বলব।

Advertisement

পূর্ব বর্ধমানের ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা বলেন, ওই মৃত ডলফিনের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশকে নিয়ে অভিযান চালাব। প্রশ্ন উঠছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহের মতো কাটোয়াতেও কি তেল নিষ্কাশন চক্র গজিয়ে উঠেছে। সূত্রের দাবি, ডলফিনের চর্বি থেকে একধরনের তেল পাওয়া যায়। যা মূলত মাছ ধরার চার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আবার অনেকেই এটাকে গাঁটের ব্যথার উপশমের জন্য শঙ্কর মাছের তেল বলে বিক্রি করে। কিন্তু ডলফিনের তেল ব্যথার উপশমে কাজে লাগে এরকমটা, চিকিৎসাশাস্ত্রে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা অনুমান করছেন, মাছ ধরার চার তৈরির জন্যই তেল সংগ্রহ করতে টিনের মধ্যে ডলফিন হত্যা করে ফাঁকা জায়গায় গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের সদস্য বাণেশ্বর রাজোয়াড় বলেন, আমরা চাইছি দোষীদের খুঁজে বের করে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক।

বনদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাটোয়ায় গত একবছরে ৩-৪টি মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাটোয়া ও নদীয়া জলসীমায় গত একবছরে মোট ১১টি ডলফিনকে ভেসে যেতে দেখেছেন। ডলফিন বন্ধু গণেশ চৌধুরী বলেন, এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কাটোয়ার ভাগীরথীতে কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিমি এলাকা ডলফিনের বিচরণ ক্ষেত্র। কয়েক বছর আগে ঘটা করে কাটোয়ার শাঁখাই ঘাটে গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছিল রাজ্যে বনদপ্তর। ডলফিন নিয়ে গবেষণাও চালাচ্ছে বনদপ্তর। তবুও ডলফিনের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। এই এলাকায় ৩২ থেকে ৩৫টির বেশি  গাঙ্গেয় ডলফিন রয়েছে। সচেতনার প্রচার সত্ত্বেও কেন মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে বনদপ্তর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ