সংবাদদাতা তারকেশ্বর: তারকেশ্বরের ছাওনাপুর গ্রামে রবিবার পালিত হলো শীতলা ঠাকুরের নবম দোল উৎসব। প্রায় তিনশো বছর ধরে এই দোল হচ্ছে। ১৮টি গ্রামের বাসিন্দারা ভিড় করে আসেন এখানে। চৈত্রের নবম তিথিতে শীতলার পুজো দেওয়ার পর আবীর খেলায় মাতেন তাঁরা। এক সপ্তাহ ধরে তরজা গান, যাত্রা, হরিনাম সংকীর্তন হয়। শীতলার মন্দির একসময় ছিল খড়ের। পরে পাকা মন্দির হয়েছে।
শনিবার অর্থাৎ পুজোর আগের দিন দিঘিরপাড়ে চাঁচড় অনুষ্ঠান হয়েছে। খড়ের ঘরে দেবীকে নিয়ে গিয়ে পুজো করা হয়। পুজো শেষে ফের মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর খড়ের ঘরে লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন। এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বরদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়। পরবর্তী সময় মন্দিরের দায়িত্ব পান বড়দাপ্রসাদের তিন নাতনি। দেবীর শিলামূর্তির দুই চোখ ও জিভ সোনার। বাহন গাধা। কথিত আছে, পিয়াসারার জমিদার সরকার বাড়িতে অধিষ্ঠিত ছিলেন শীতলা। বরদাপ্রসাদকে মন্দির প্রতিষ্ঠার কথা জানান দেবী। দোল পূর্ণিমার পর নবম তিথিতে এই পুজো করে উৎসব পালন করার স্বপ্নাদেশ দেন। তারপর পুজো ও উৎসব শুরু। পুরোহিত কামনাশিস চক্রবর্তী জানান, জাগ্রত দেবীর কাছে গ্রামবাসীরা মনস্কামনা পূরণের প্রার্থনা করেন। এলাকার মানুষ এই দিনটির সারাবছর ধরে অপেক্ষা করেন।