নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কুকুরের মুখে ঝুলছে কাটা নরমুণ্ড! সেই কুকুরকে তাড়া করছে আরেকটি কুকুর। বুধবার দুপুরে এমনই ভয়াবহ এই দৃশ্যের সাক্ষী রইল চণ্ডীতলা-২ ব্লকের খরসরাই এলাকা। এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে পথচলতি মানুষজন থমকে গিয়েছেন। বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই তীব্র আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে তাঁদের। ততক্ষণে দ্রুত এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। খরসরাইয়ের (২০নম্বর রেলগেট) রেললাইন পার্শ্বস্থ জমির চারদিকে ভিড় জমতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় কয়েকজন কুকুরটিকে তাড়া করে কাটা নরমুণ্ড উদ্ধার করে। আশপাশে কোথাও মুণ্ডহীন ধড় পড়ে রয়েছে কি না, খোঁজখবর শুরু হয়। পরে পুলিস এসে কিছুটা দূরে রেললাইনের পাশ থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
ততক্ষণে কার্যত গোটা গ্রাম উঠে এসেছে রেললাইনের ধারে। সবার মুখেই এই হাড়হিম দৃশ্য নিয়ে চর্চা। খবর পেয়ে কামারকুণ্ডু রেল পুলিসের একটি দলও ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। ধড় ও মুণ্ড তারাই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিসি তদন্তে বেগমপুর ও বারুইপাড়া রেল স্টেশনের মাঝে রেলের একটি ইলেকট্রিক পোস্টে তাজা রক্তের দাগও পাওয়া যায়। ঘণ্টাখানেকের রুদ্ধশ্বাস ঘটনাপ্রবাহের পর বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হয় স্থানীয়দের কাছে। রেল পুলিস ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে দু’টি মত জানিয়েছে। তাদের দাবি, মৃত যুবক কোনও দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। হয়তো দরজার কাছ থেকে কোনও কারণে বাইরে মুখ বের করেছিলেন। তখনই ইলেকট্রিক পোস্টে ধাক্কা খেয়ে লাইনে পড়ে যান। তাতেই তার ধড় ও মাথা আলাদা হয়ে যায়। অথবা, ওই যুবক পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় এলাকার মানুষজন কেউই ওই দেহ শনাক্ত করতে পারেনি।
কুকুরের মুখ থেকে নরমুণ্ড উদ্ধার করেছিলেন মাঝবয়সি আলাউদ্দিন শেখ ও তাঁর সঙ্গীরা। তিনি বলেন, ‘সাইকেলে যাচ্ছিলাম। আচমকা ওই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পাই। কুকুরের মুখে তাজা নরমুণ্ড। আমরা ঠিক করি, কুকরটি একবার মাটিতে কাটা মুণ্ড রাখলেই তাড়া করব। সেই মতো সুযোগ আসতেই তাড়া করি। তারপর আশপাশে মৃতদেহ খুঁজতেও শুরু করি। কিন্তু কিছু চোখে পড়েনি।’ স্থানীয় বাসিন্দা সাবির আলি বলেন, ‘আমরা চণ্ডীতলা থানা ও কামারকুণ্ডু রেল পুলিসকে জানাই। তারা এসে মৃতদেহ খুঁজে পায়। একটি ইলেকট্রিক পোস্টের অনেকটা উপরে তাজা রক্ত মিলেছে। যেভাবেই ঘটনা ঘটে থাকুক, এদিন আমরা যে দৃশ্য দেখেছি, তা ভয়াবহ বললে কম বলা হয়।’