নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জগৎবল্লভপুরে একদল কুকুরের অত্যাচারে শঙ্কিত বাসিন্দারা। অভিযোগ, বুধ ও বৃহস্পতিবার, দু’দিনে ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০ জনকে কামড়েছে ওই কুকুরের দল। জগৎবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সারমেয়র দলকে ধরতে কার্যত ঘুম ছুটেছে ব্লক প্রশাসনের।
ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর থেকে এদিন সকাল পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি বাসিন্দার উপর আক্রমণ চালিয়েছে কুকুরের দলটি। বৃদ্ধ, শিশু তো বটেই, এলাকার যুবকদের হাতে-পায়েও কামড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে পাঁতিহাল পঞ্চায়েতে ১০ জন, শঙ্করহাটি ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েতে ন’জন, বড়গাছিয়া ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েতে পাঁচজন, জগৎবল্লভপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের তিনজনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে। সারমেয়র কামড় নিয়ে গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন হুগলি জেলার তিনজন। গত দু’দিন ধরে ঘর থেকেই বেরতে ভয় পাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। কোথাও গেলে দল বেঁধে যাচ্ছেন তাঁরা। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। সাদাতপুরের বাসিন্দা রুক্মিণী চৌধুর বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় মেয়েকে নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একদল কুকুর ছুটে এসে কামড়ানোর চেষ্টা করে। কোনওমতে একটি দোকানে ঢুকে পড়ি। ভাগ্য ভালো কামড়ায়নি’। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, কুকুরগুলি এই এলাকার নয়। সম্ভবত হুগলি থেকে কোনওভাবে এদিকে ঢুকে যাকে তাকে কামড়ে দিচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।
জেলা পরিষদের সদস্য বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘সারমেয়র দলটিকে ধরার জন্য প্রশাসনকে বলেছি। সাধারণ মানুষকেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ এদিকে, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো না থাকায় সারমেয়র দলটিকে ধরতে গিয়ে ফাঁপরে পড়েছে ব্লক প্রশাসন। জগৎবল্লভপুরের বিডিও উৎপল দাস মুহুরি বলেন, ‘যে কুকুরগুলি মানুষকে কামড়াচ্ছে, তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। ওই প্রাণীগুলি রোগগ্রস্ত কি না, দেখা পরীক্ষা করে দেখা হবে’। তবে মোট কতগুলি কুকুর এই এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে, তা কেউই নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।