Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোগীর পরিজনের সঙ্গে চিকিৎসকের ‘পার্টি মিট’ বাধ্যতামূলক, সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্যদপ্তর

জগদীশ ভুঁইঞার স্ত্রীর এই যায় সেই যায় অবস্থা। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ভর্তি করিয়েছেন সরকারি হাসপাতালে।

রোগীর পরিজনের সঙ্গে চিকিৎসকের ‘পার্টি মিট’ বাধ্যতামূলক, সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্যদপ্তর
  • ৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জগদীশ ভুঁইঞার স্ত্রীর এই যায় সেই যায় অবস্থা। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ভর্তি করিয়েছেন সরকারি হাসপাতালে। কিছুটা বরাতজোর, কিছুটা স্ত্রীর গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা, আর কিছুটা পরিচিতির সৌজন্যে পেয়েছেন একটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের বেড। তাঁর স্ত্রীর দু’টি কিডনিরই অবস্থা খারাপ। দাতা মিললে ট্রান্সপ্লান্ট হবে। মনে টেনশন লেগেই আছে। ভর্তি হয়েছেন দিন তিনেক। বড় ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একবার, তাও ২০-২৫ সেকেণ্ডের জন্য। মনের মধ্যে হাজার কথা জমে আছে। অনেক প্রশ্নও আছে। কিন্তু বলবেন কাকে! রোজ দেখছেন বড় ডাক্তার এসে অল্পবয়সি কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে রোগী দেখে বেরিয়ে যাচ্ছেন। কথা কী বলবেন, তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছেন অন্তত সাত-আটজন জুনিয়র ডাক্তার। সরকারি হাসপাতালে রোজ এই ধরনের দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে হয়। কানাকড়ি লাগে না চিকিৎসায়। কিন্তু রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে অধিকাংশ সময় রোগীর বাড়ির লোকজন প্রাণ খুলে তাঁর প্রিয়জনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগই পান না।

Advertisement

স্বাস্থ্যদপ্তর তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রোজ ‘পার্টি মিট’ করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন রোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতেই হবে। ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজ—সব জায়গায় পুরানো দিনের এই প্রথা ফিরিয়ে আনতে হবে আবশ্যিকভাবে।
 স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে বাড়ির লোকজনের কথা বলার জন্য সুনির্দিষ্ট ঘর থাকতে হবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে। সেখানে বসার জায়গা, পাখা ইত্যাদি রাখতে হবে। কিছুদিন আগে হয়ে গেল স্বাস্থ্যদপ্তরের রিভিউ মিটিং। সেখানে দপ্তরের এক শীর্ষকর্তা সাফ সাফ জানিয়েছেন, ‘পার্টি মিট’ পুরোদমে চালু করতেই হবে। 
১৭ ফেব্রুয়ারি ছিল দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের নেতৃত্বে রিভিউ মিটিং। সেখানে এই কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে। 
প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার সুপারদের রাউন্ড দেওয়া, আউটডোর ও ইনডোর টিকিটে (বেড হেড টিকিট বা বিএইচটি) সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পুরো সই এবং অফিসিয়াল স্ট্যাম্প থাকতেই হবে। আউটডোরের রোগীদের দিনের দিনই রক্তপরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। প্রেসক্রিপশনের মান কেমন, তা যাচাইয়ে আরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিভাগ থেকে নিদেনপক্ষে ৩০টি করে প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
 কোথায় হবে ‘পার্টি মিট’? সূত্রের খবর, আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে ‘পার্টি মিট’ করার পৃথক জায়গা রাখতে হবে। যদি একই ওয়ার্ডে একাধিক বিভাগের রোগী থাকেন, সেক্ষেত্রে একটি ঘরে বিভাগীয় চিকিৎসকরা এসে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যাবেন। 

সম্পর্কিত সংবাদ