Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোগী সামলেই এবার ভোট-ময়দানে চিকিৎসকরা

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোট রাজনীতিতে ডাক্তারদের অংশগ্রহণ বেড়ে চলেছে। শাসক দল তৃণমূল ইতিমধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস বাদে অন্যান্য দল সিংহভাগ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে।

রোগী সামলেই এবার ভোট-ময়দানে চিকিৎসকরা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোট রাজনীতিতে ডাক্তারদের অংশগ্রহণ বেড়ে চলেছে। শাসক দল তৃণমূল ইতিমধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস বাদে অন্যান্য দল সিংহভাগ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন দল মিলিয়ে ৩০ জনেরও বেশি চিকিৎসক নেমে পড়েছেন ভোটযুদ্ধের ময়দানে। কিন্তু প্রশ্ন হল, ভোট রাজনীতিতে এতজন চিকিৎসকের প্রার্থী হয়ে নেমে পড়ার নেপথ্যে কী কারণ? সমাজ বদলের ভাবনা নাকি ক্ষমতা -প্রতিপত্তি-প্রতাপের মোহ?

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় রয়েছে ১০ জন চিকিৎসকের নাম। এখনো পর্যন্ত বিজেপির প্রকাশিত তালিকায় নাম রয়েছে মোট ১০ জন চিকিৎসকের। বামেদের ঘোষিত ২২৪ জনের প্রার্থী তালিকায় ডাক্তার আছেন ৬ জন। আরেক বামপন্থী দল এসইউসির হয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছেন ৫ জন চিকিৎসক। বিজেপি ও বামেদের বেশ কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে। 
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তৃণমূলের চিকিৎসক প্রার্থীদের তালিকায় এবার নাম নেই ডাক্তার রাজনীতির দুই ‘প্রভাবশালী’ চরিত্র প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন এবং বিদায়ী বিধায়ক ডাঃ সুদীপ্ত রায়ের। তৃণমূলের আরেক ‘প্রভাবশালী’ চিকিৎসক নির্মল মাজি কেন্দ্র বদলে গোঘাটে টিকিট পেয়েছেন। তরুণ এবং নতুন মুখ হিসাবে হরিণঘাটায় ডাঃ রাজীব বিশ্বাস, কল্যাণীতে ডাঃ অতীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। 
হঠাৎ কেন সক্রিয় ভোট রাজনীতিতে? দক্ষিণ হাওড়ার বাম প্রার্থী তথা অর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ‘সমাজ বদল’-এর ভাবনা। বললেন, ‘আমার ছোটোবেলার সরকারি স্কুলের এখন বেহাল দশা। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ছাড়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে না! কেন ভোটে দাঁড়াব না বলতে পারেন? প্রচারের ফাঁকেই অপারেশন করছি। রাতে বাড়ি ফিরে রোগীও দেখছি।’ পিজি হাসপাতালের ডেপুটি সুপার সহ স্বাস্থ্যদপ্তরের একাধিক প্রশাসনিক পদে কাজ করা ডাঃ অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল এবার ভোট-ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন কল্যাণীতে। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের জন্য কাজ করার আরও বড়ো সুযোগ দিয়েছেন।’ বেহালা পূর্বের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘২০১৩ থেকে রাজনীতিতে আছি। চিকিৎসা পেশা চালিয়ে যেতে হয়। এখন দুপুরবেলার বিশ্রামটুকু বাদ দিয়েছি। ওই সময় রোগী দেখছি।’ এসইউসির হয়ে জোড়াসাঁকোতে প্রার্থী হয়েছেন কমিউনিটি ফিজিশিয়ান ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ ডাঃ অংশুমান মিত্র। ৩৫ বছর ডাক্তারি করছেন। তাহলে ভোটের লড়াইয়ে কেন? তাঁরও উত্তর ‘সমাজ বদলের জন্যই আসা।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ