Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তাজপুরে সমুদ্র স্নানে নেমে মৃত্যু চিকিৎসক দম্পতির

রামনগরের তাজপুর পর্যটন কেন্দ্রের সমুদ্র সৈকতে স্নান করতে নেমেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের বাসিন্দা ওই চিকিৎসক দম্পতি।

তাজপুরে সমুদ্র স্নানে নেমে মৃত্যু চিকিৎসক দম্পতির
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: সমুদ্রে ডুবে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই রেশ কাটার আগে সমুদ্রে ডুবে চিকিৎসক দম্পতির মৃত্যু হল। বুধবার রাতে রামনগরের তাজপুর পর্যটন কেন্দ্রের সমুদ্র সৈকতে স্নান করতে নেমেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের বাসিন্দা ওই চিকিৎসক দম্পতি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম কুন্তল চক্রবর্তী (৩৫) ও শৈলজা ভরদ্বাজ (৩২)। তাঁদের বাড়ি সোদপুরের ঘোলা থানার অশোক সেন নগর এলাকায়। 

Advertisement

শৈলজা মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহকুমা হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট ছিলেন। কুন্তল সোদপুরে একটি নার্সিংহোমে সার্জেন ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। বুধবার দম্পতি সমুদ্র সৈকতে যান। সেখানেই মর্মান্তিক পরিণতি। উল্লেখ্য, বুধবার দীঘায় সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে কোনোরকমে রক্ষা পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার বাসিন্দা দাদু-নাতনি। একের পর এক দুর্ঘটনার জেরে সৈকতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
চিকিৎসক দম্পতি প্রাইভেট গাড়িতে তাজপুর আসেন। তবে প্রথমে তাঁরা হোটেলে ওঠেননি। এখানে ঘোরার পর হোটেলে উঠবেন বলে পরিকল্পনা ছিল। আসার পর কিছুক্ষণ তাজপুর বিশ্ববাংলা উদ্যান সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে বসেছিলেন তাঁরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ সকলের নজর এড়িয়ে উদ্যানের অদূরে নির্জন সৈকতে স্নান করতে নামেন দম্পতি। তখন জোয়ার চলছিল। স্নানের সময় টাল সামলাতে না পেরে তলিয়ে যেতে থাকেন শৈলজা। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তলিয়ে যান কুন্তলও। সন্ধ্যা নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেখানে লোকজনের আনাগোনা কম ছিল। গাড়ির চালক নুর ইসলাম পাড়ের দিকে ছিলেন। তিনি আচমকা দম্পতিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তাঁর মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এরই মধ্যে দু’টি দেহ ভেসে ওঠে।
খবর পেয়ে আসেন নুলিয়ারা। উদ্ধার করে দু’জনকে মন্দারমণি কোস্টাল থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে দু’জনকে বড়রাঙ্কুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন, অনেক আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মারফত খবর পেয়ে রাতেই বাড়ির লোকজন হাসপাতালে পৌঁছন। বৃহস্পতিবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর দু’জনের দেহ পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কাঁথি হাসপাতালে এসেছিলেন কুন্তলের বাবা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তিনি শুধু বলতে থাকেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল। কাদের নিয়ে বাকি জীবন বাঁচব?’ 
উপকূল এলাকার থানাগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) মোহিত মোল্লা বলেন, তালসারির ঘটনার পর আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। তারপরও অনেক পর্যটক নজর এড়িয়ে সমুদ্রে নেমে পড়ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ