Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

জানেন কি এই সব কাজ করলেই খারাপ হয় কিডনি?

জানেন কি এই সব কাজ করলেই খারাপ হয় কিডনি?
  • ১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৩
Prefer us on Google

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ একটি বৃহত্‍ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতে প্রায় ১০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। মুশকিল হল এই বৃহত্‍ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই তাঁদের অসুখ সম্বন্ধে জানেন না! কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এই অসুখ নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধে এবং উপসর্গ দেখা দেয় একদম শেষ পর্যায়ে। প্রশ্ন হল কিডনি ভালো রাখতে করবেন কী?

Advertisement

মণিপাল হাসপাতালের (শিলিগুড়ি) সিনিয়র কনসালটেন্ট নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ অজিত কুমার সিংহ জানাচ্ছেন, আমাদের শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় কিডনির ভূমিকা অপরিসীম। সীমের বীজের মতো আকৃতির এই অঙ্গটি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করে দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, গুরুতর সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই অঙ্গটির প্রতি যত্নশীল হই না।

কেন কিডনির যত্ন নেওয়া জরুরি?

আধুনিক জীবনশৈলী, দীর্ঘসময় বসে কাজ করার অভ্যাস, কায়িক শ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের বৃদ্ধি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভারতে প্রায় ৬৫ ক্রনিক কিডনি রোগী উচ্চ রক্তচাপে এবং ৩২ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাই কিডনি ভালো রাখতে এই জীবনযাত্রাজনিত রোগগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

কিডনি সুস্থ রাখার ৫টি কার্যকরী উপায়

১. নিয়মিত স্ক্রিনিং ও দ্রুত শনাক্তকরণ: যাদের পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে বা যারা স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের নিয়মিত রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।

২. রক্তচাপ ও শর্করার নিয়ন্ত্রণ: রক্তচাপ ১৪০/৯০ এমএমএইচজি-এর নীচে রাখা এবং রক্তের গ্লুকোজ স্থিতিশীল রাখা কিডনির ওপর চাপ কমায়। লবণ ও মিষ্টি কম খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এক্ষেত্রে আবশ্যিক।

৩. কিডনি-বান্ধব খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর ফল, শাকসব্জি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য রাখুন খাদ্য তালিকায়। অতিরিক্ত লবণ, ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

৪. কায়িক শ্রম: সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটাহাঁটি, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম করতেই হবে। শরীরচর্চার অভ্যেস শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তচাপ কমায়।

৫. পর্যাপ্ত জল পান: পর্যাপ্ত জল পান করলে কিডনি শরীর থেকে টক্সিক নানা পদার্থ সহজে বের করে দিতে পারে। পাশাপাশি ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন বেদনানাশক ওষুধ  খাওয়া বন্ধ করা জরুরি, কারণ এই ধরনের ওষুধ কিডনির টিস্যুর মারাত্মক ক্ষতি করে।

উপসংহার

সচেতনতাই কিডনি সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার। উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষায় না থেকে আজই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনার কিডনিকে দীর্ঘকাল সচল রাখতে।

লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

সম্পর্কিত সংবাদ