


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের আগে ছিল গুনগুন। ‘দাদা, কী বুঝছেন?’ ভোটগ্রহণ শেষের পর বিষয়টি আর গুনগুন ও গুঞ্জনে সীমাবদ্ধ নেই। চায়ের দোকান থেকে অটোস্ট্যান্ড, বাজারহাট থেকে দোকানপাট—চেনা, অল্পচেনা, অতিচেনাদের মধ্যে কথোপকথনের একটাই সূত্র—‘দাদা, কী বুঝছেন, ভাই কী বুঝছ?’ এছাড়া লাগাতার ফোন তো আছেই। আছে রসগোল্লা, বিরিয়ানি থেকে নাকি বাজি পর্যন্ত!
বলা বাহুল্য, যাঁরা প্রত্যক্ষভাবে কোনো দলের কর্মী নয়, তাঁদের উত্তেজনাটা চাপা। নিজের বা পরিবারেই সীমিত। কিন্তু যাঁরা কট্টর সমর্থক, রাজনৈতিক কর্মী—তাঁদের অনেকেরই ঘুম উধাও কয়েকদিন যাবৎ। একেই পশ্চিমবঙ্গের বাড়ি বাড়ি সুগার, প্রেশার, কোলেস্টেরলের রোগী। স্টেন্ট বা পেসমেকার বসে গিয়েছে, পাড়ায় পাড়ায় এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
শুধু রাজ্য নয়, সারা দেশ যে নির্বাচনি ফলের দিকে তাকিয়ে, সেই বাংলার ভোটের রেজাল্টের দিন সুগার, প্রেশারের রোগীদের অহেতুক উত্তেজিত হতে একেবারে নিষেধ করছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি, যাঁদের জীবন ওষুধ নির্ভর, তাঁরা যেন মনে করে ওষুধ বা ওষুধগুলি খান—সেই পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাজীব শীল বলেন, ‘মানুষ নিজের মূল্যবান ভোট দিয়ে এসেছেন। কারো হাতে আর কিছু নেই। যা ফলার ফল বলবে। টেনশন করে কি নিজের প্রিয় দলকে জেতাতে বা বিপক্ষকে হারাতে পারবেন? তাই মনে করে ওষুধ খেতে ভুলবেন না। শান্ত থাকুন। কোনোভাবেই উত্তেজিত হবেন না’। ডাঃ শীলের পরামর্শ ‘ফল দেখতে দেখতে অতিরিক্ত ঘাম, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তিভাব মনে হলে সময় নষ্ট না করে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
আর জি কর মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, ‘যাঁদের হৃদরোগের সমস্যা আছে বা সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন, অস্বস্তি হলে লাইভ দেখবেন না। বারবার ফোন করে ফল জেনেও টেনশন বাড়াবেন না। মনে করে ওষুধ খাবেন। রাতে ভালো ঘুমান। বিশেষত কো-মরবিটি থাকা বয়স্কদের বলব, অতিরিক্ত টেনশন করে বিপদ ডেকে আনবেন না। আগে তো নিজের জীবন। তারপর সবকিছু।’