পরামর্শে বিশিষ্ট চক্ষুবিশেষজ্ঞ ডাঃ হিমাদ্রি দত্ত
Advertisement
কয়েক দিন ধরেই অফিসে কাজ করার সময় চোখ থেকে অনবরত জল বেরচ্ছে সৌমিকের। রাতে শুয়ে শুয়ে ওটিটি দেখতে দেখতে দিন কয়েক আগে চোখের চারপাশে ব্যথাও অনুভব করছিল। কয়েক দিনের মধ্যে দেখা গেল বাইক চালানোর সময়ও চোখ ছলছল করছে, চোখের পাশ দিয়ে কিছুটা জলও গড়িয়ে পড়ছে। চোখে পাওয়ার আসছে ভেবে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানা গেল, এ নিতান্তই ড্রাই আই-এর সমস্যা। তবে ‘নিতান্ত’ লিখছি মানে এই নয় যে ড্রাই আইয়ের সমস্যাটি খুবই সাধারণ। বরং সময়মতো সচেতন না হলে চোখের বড় ক্ষতি হতে পারে। এমনকী দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণ হয়ে আসতে পারে।
ড্রাই আই! ব্যাপারটা কী?
আমাদের চোখে অনেকগুলি গ্রন্থি থাকে। তা থেকে লুব্রিক্যান্ট (জলের আকারে) নিঃসৃত হয়। ফলে বাইরের চোট-আঘাত, ধুলোবালি ও নোংরা থেকে চোখ রক্ষা পায়। এগুলি চোখকে নিরাপদে রাখে। এসব গ্রন্থি থেকে জলের নিঃসরণ কমে গেলে চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। দিনের পর দিন কিছু কিছু ভুল অভ্যেস এবং বাহ্যিক নানা কারণের জন্য চোখের উপর চাপ পড়ে ও অশ্রুগ্রন্থি পর্যাপ্ত লুব্রিক্যান্ট উৎপাদন করতে পারে না। তখনই ড্রাই আই দেখা দেয়।
কেন শুকিয়ে যায় চোখ?
এই প্রজন্মের সিংহভাগ ছেলেমেয়ের এই সমস্যা আছে। দিনরাত হয় মোবাইল, নয়তো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে চোখ রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। এমনকী, সারাদিনের স্ট্রেস ভুলতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন, সেটিও চোখের উপর চাপ দেওয়ারই কাজ— ওটিটি বা পছন্দের ভিডিওয় চোখ রাখা। একটানা মোবাইল ও কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখের পলক ফেলতেও ভুলে যান তাঁরা। এই পলক না ফেলার কারণেই মূলত এই অসুখ হয়। শুধু তা-ই নয়, দিনরাত এসি ঘরে থাকাও এই প্রজন্মের অভ্যেস। বাড়ি থেকে এসি গাড়ি চড়ে অফিস, সেখানে এসি রুম, ফের এসি গাড়ি করে ঘরে ঢুকেই এসি চালিয়ে দেওয়া। একটু গরম বাড়লে এই অভ্যেস আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অতিরিক্ত এসি রুমে থাকলেও ড্রাই আই হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাহ্যিক কারণের মধ্যে আমাদের চারপাশের দূষিত আবহাওয়াও এই রোগের জন্য দায়ী। এছাড়া ভিটামিন এ-র অভাবেও এই রোগ হতে পারে। কিছু মহিলাদের মেনোপজের পরে এই সমস্যা দেখা দেয়।
উপসর্গ
এই সমস্যা হলে প্রথমেই চোখ থেকে ঘন ঘন জল পড়বে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর জল পড়া শুরু হয়। এছাড়া চোখে কিছু পড়ে গেলে যেমন খচখচ করে, তেমন বোধ হতে পারে। মনে হতে পারে চোখে বুঝি কিছু বিঁধে আছে। মাথাযন্ত্রণা, লালাগ্রন্থির নিঃসরণ কমে যাওয়া এই অসুখের দোসর।
অসুখ ধরার বিজ্ঞান
ড্রাই আই-এর সমস্যা চিকিৎসকরা উপসর্গ শুনে ও রোগীর লাইফস্টাইল জেনে নিয়েই নির্ণয় করতে পারেন। তবু নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত স্লিট ল্যম্প পরীক্ষা, কর্নিয়া এবং শিমার টেস্টের মাধ্যমে এই রোগ চিহ্নিত করা হয়।
এড়াব কীভাব?
এই অসুখে প্রথমেই বড় কিছু ওষুধ দেওয়া হয় না। অসুখ আয়ত্তের মধ্যে থাকলে সাধারণত জীবনযাপন বদলে রোগ সারিয়ে তোলার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। কিছু নিয়মকানুন মানলে উপকার পাবেন।
১. স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে। দিনের মধ্যে অনেকটা সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে বসে কাটাতে বাধ্য হলে মনে করে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন (ব্লিঙ্ক করুন)। চোখের পাতা পড়লে লুব্রিক্যান্ট ক্ষরণের সুযোগ বাড়ে।
২. প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর অন্তত ৩০ সেকেন্ড চোখের সামনে ধরা মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে চোখ সরিয়ে দূরের কিছু দেখুন। এতে দৃষ্টিক্ষেত্র প্রসারিত হবে ও চোখের উপর চাপ কমবে।
৩. ঘন ঘন এসিতে থাকায় রাশ টানুন।
৪. মাঝে মাঝেই চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন।
৫. চোখের শুষ্কতা ধরে রাখতে বাড়িতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
৬. কম্পিউটার, টিভি দেখার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চশমা পরা উচিত। এতে চোখে প্রভাব কম পড়ে।
এতেও না কমলে?
অনেকে কৃত্রিম উপায়ে চোখের জল তৈরি করার জন্য চোখের ড্রপ নিয়ে থাকেন। এই সকল ড্রপ আপনার চোখে লুব্রিক্যান্ট তৈরি করতে সাহায্য করে। অনেকে আবার ওমেগা-৩ ক্যাপসুল ব্যবহার করতে বলেন। চোখের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য সফট কন্ট্যাক্ট লেন্স ও চশমা ব্যবহার খুবই উপযোগী। প্যারোডিট-ডাক্ট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেও চোখের শুষ্কতা দূর করা যায়। চোখের ব্লক গ্রন্থিগুলি পরিষ্কার করতে চোখের ম্যাসাজ, চোখের থেরাপি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। শুষ্ক চোখের সমস্যায় অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন সচেতনতা ও ডাক্তারি পরামর্শ। তাতেই রোগ দূরে থাকবে, চোখ থাকবে সুস্থ।
ড্রাই আই! ব্যাপারটা কী?
আমাদের চোখে অনেকগুলি গ্রন্থি থাকে। তা থেকে লুব্রিক্যান্ট (জলের আকারে) নিঃসৃত হয়। ফলে বাইরের চোট-আঘাত, ধুলোবালি ও নোংরা থেকে চোখ রক্ষা পায়। এগুলি চোখকে নিরাপদে রাখে। এসব গ্রন্থি থেকে জলের নিঃসরণ কমে গেলে চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। দিনের পর দিন কিছু কিছু ভুল অভ্যেস এবং বাহ্যিক নানা কারণের জন্য চোখের উপর চাপ পড়ে ও অশ্রুগ্রন্থি পর্যাপ্ত লুব্রিক্যান্ট উৎপাদন করতে পারে না। তখনই ড্রাই আই দেখা দেয়।
কেন শুকিয়ে যায় চোখ?
এই প্রজন্মের সিংহভাগ ছেলেমেয়ের এই সমস্যা আছে। দিনরাত হয় মোবাইল, নয়তো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে চোখ রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। এমনকী, সারাদিনের স্ট্রেস ভুলতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন, সেটিও চোখের উপর চাপ দেওয়ারই কাজ— ওটিটি বা পছন্দের ভিডিওয় চোখ রাখা। একটানা মোবাইল ও কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখের পলক ফেলতেও ভুলে যান তাঁরা। এই পলক না ফেলার কারণেই মূলত এই অসুখ হয়। শুধু তা-ই নয়, দিনরাত এসি ঘরে থাকাও এই প্রজন্মের অভ্যেস। বাড়ি থেকে এসি গাড়ি চড়ে অফিস, সেখানে এসি রুম, ফের এসি গাড়ি করে ঘরে ঢুকেই এসি চালিয়ে দেওয়া। একটু গরম বাড়লে এই অভ্যেস আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অতিরিক্ত এসি রুমে থাকলেও ড্রাই আই হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাহ্যিক কারণের মধ্যে আমাদের চারপাশের দূষিত আবহাওয়াও এই রোগের জন্য দায়ী। এছাড়া ভিটামিন এ-র অভাবেও এই রোগ হতে পারে। কিছু মহিলাদের মেনোপজের পরে এই সমস্যা দেখা দেয়।
উপসর্গ
এই সমস্যা হলে প্রথমেই চোখ থেকে ঘন ঘন জল পড়বে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর জল পড়া শুরু হয়। এছাড়া চোখে কিছু পড়ে গেলে যেমন খচখচ করে, তেমন বোধ হতে পারে। মনে হতে পারে চোখে বুঝি কিছু বিঁধে আছে। মাথাযন্ত্রণা, লালাগ্রন্থির নিঃসরণ কমে যাওয়া এই অসুখের দোসর।
অসুখ ধরার বিজ্ঞান
ড্রাই আই-এর সমস্যা চিকিৎসকরা উপসর্গ শুনে ও রোগীর লাইফস্টাইল জেনে নিয়েই নির্ণয় করতে পারেন। তবু নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত স্লিট ল্যম্প পরীক্ষা, কর্নিয়া এবং শিমার টেস্টের মাধ্যমে এই রোগ চিহ্নিত করা হয়।
এড়াব কীভাব?
এই অসুখে প্রথমেই বড় কিছু ওষুধ দেওয়া হয় না। অসুখ আয়ত্তের মধ্যে থাকলে সাধারণত জীবনযাপন বদলে রোগ সারিয়ে তোলার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। কিছু নিয়মকানুন মানলে উপকার পাবেন।
১. স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে। দিনের মধ্যে অনেকটা সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে বসে কাটাতে বাধ্য হলে মনে করে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন (ব্লিঙ্ক করুন)। চোখের পাতা পড়লে লুব্রিক্যান্ট ক্ষরণের সুযোগ বাড়ে।
২. প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর অন্তত ৩০ সেকেন্ড চোখের সামনে ধরা মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে চোখ সরিয়ে দূরের কিছু দেখুন। এতে দৃষ্টিক্ষেত্র প্রসারিত হবে ও চোখের উপর চাপ কমবে।
৩. ঘন ঘন এসিতে থাকায় রাশ টানুন।
৪. মাঝে মাঝেই চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন।
৫. চোখের শুষ্কতা ধরে রাখতে বাড়িতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
৬. কম্পিউটার, টিভি দেখার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চশমা পরা উচিত। এতে চোখে প্রভাব কম পড়ে।
এতেও না কমলে?
অনেকে কৃত্রিম উপায়ে চোখের জল তৈরি করার জন্য চোখের ড্রপ নিয়ে থাকেন। এই সকল ড্রপ আপনার চোখে লুব্রিক্যান্ট তৈরি করতে সাহায্য করে। অনেকে আবার ওমেগা-৩ ক্যাপসুল ব্যবহার করতে বলেন। চোখের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য সফট কন্ট্যাক্ট লেন্স ও চশমা ব্যবহার খুবই উপযোগী। প্যারোডিট-ডাক্ট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেও চোখের শুষ্কতা দূর করা যায়। চোখের ব্লক গ্রন্থিগুলি পরিষ্কার করতে চোখের ম্যাসাজ, চোখের থেরাপি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। শুষ্ক চোখের সমস্যায় অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন সচেতনতা ও ডাক্তারি পরামর্শ। তাতেই রোগ দূরে থাকবে, চোখ থাকবে সুস্থ।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়



