Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিনভর ফোনই ধরেননি বান্ধবী, ভয় দেখাতেই গুলিবিদ্ধ পুলিস অফিসার?

দিনভর ফোনই ধরেননি বান্ধবী, ভয় দেখাতেই গুলিবিদ্ধ পুলিস অফিসার?
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফোন না ধরা নিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে চলছিল ঝামেলা। মদ্যপ অবস্থায় পুলিস আধিকারিক জয়ন্ত পাল ফিল্মি কায়দায় নিজের হাতে পিস্তল ঠেকিয়ে তরুণীকে ভয় দেখাতে চেয়েছিলেন। তখনই গুলি বেরিয়ে জখম হন তিনি। বুধবার রাতে হাওড়ার এনএস রোডের ঘোষপাড়া পেট্রল পাম্পের সামনে নিজেই নিজের হাতে গুলি চালান হুগলির চণ্ডীতলা থানার আইসি জয়ন্ত পাল। শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচশো মিটার দূরে দালালপুকুরের কাছে পিস্তলটি উদ্ধার করেছে পুলিস। 
Advertisement
হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বুধবার দিনভর বান্ধবীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন পুলিস অধিকারিক। বান্ধবী ফোন ধরেননি। সন্ধ্যায় নিজের থানা এলাকা ছেড়ে হাওড়ায় এসে বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করেন জয়ন্ত। তাদের সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন। ফোন না ধরাকে কেন্দ্র করে ফের বান্ধবীর সঙ্গে অশান্তি শুরু হয়। চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন স্থানীয়দের একাংশ। আচমকা পকেট থেকে একটি দেশি পিস্তল বের করে নিজের হাতের ঠেকিয়ে বান্ধবীকে ভয় দেখাতে গিয়েছিলেন জয়ন্ত। আচমকা নেশার ঘোরে গুলি চালিয়ে বসেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জয়ন্ত। কিন্তু গাড়ির কাছে এসে অচৈতন্য হয়ে পড়েন। এরপর তাকে নিয়ে সঙ্গীরা হাসপাতালে চলে যায়। সেখানে প্রত্যেকে নিজেদের পুলিস পরিচয় দিয়েছিল। এমনকী হাসপাতালে যাওয়ার পথে দালালপুকুরের কাছে একটি ফাঁকা জায়গায় পিস্তলটি ছুড়ে ফেলে দেয় তারা। সেটি উদ্ধার করেছে পুলিস।
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তার কথায়, জয়ন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বারবার পুলিস কর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। প্রথমে নিজেই নিজের হাতে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেন। কিন্তু পরে তাঁর উপর হামলা চালানোর অভিযোগ করেন। এক পুলিস কর্তা বলেন, ‘তদন্ত চলছে। দ্রুত সবটা পরিষ্কার হবে। ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণেই গুলি। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি তাঁর সার্ভিস রিভলভার নয়।’ পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কম বয়সি বন্ধু-বান্ধবীদের গ্রুপে জনপ্রিয় ছিলেন জয়ন্ত। বয়সে প্রায় দ্বিগুণ হলেও তাদের কাছে ‘বন্ধু’ ছিলেন তিনি। প্রায়দিনই নিজেদের মধ্যে মদ্যপান, আমোদ প্রমোদ, ফূর্তি চলত হাওড়া ও কলকাতার বিভিন্ন পাব কিংবা ফ্ল্যাটে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ